কেষ্ট নেই তো কী! বীরভূমে একসঙ্গে ৪৩ তৃণমূল নেতাকে ‘নজরবন্দি’ করল কমিশন, তালিকায় কারা?

বীরভূমের ভোট মানেই অবধারিতভাবে নির্বাচন কমিশনের স্ক্যানারে থাকতেন দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল। কিন্তু ২০২৬-এর নির্বাচনে ছবিটা বদলে গেল। এবার আর ‘কেষ্ট’ একাকী নন, কমিশনের নজরে রয়েছেন বীরভূম জেলা তৃণমূলের এক-দুই নয়, একেবারে ৪৩ জন দাপুটে নেতা!

কমিশনের হিটলিস্টে কারা? ২০১৬ থেকে প্রতি নির্বাচনেই অনুব্রত মণ্ডলকে নজরবন্দি করার যে প্রথা কমিশন চালিয়ে আসছিল, এবার তাতে বদল আনা হয়েছে। অনুব্রতকে সরাসরি তালিকায় না রাখলেও তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা নেতাদের ওপর সাঁড়াশি চাপ তৈরি করা হয়েছে। কমিশনের এই তালিকায় রয়েছেন:

  • সিউড়ি বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়

  • সাঁইথিয়ার তৃণমূল প্রার্থীর স্বামী দেবাশিস সাহা

  • জেলা কোর কমিটির সদস্য রবি মুর্মু ও প্রাক্তন বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী

  • এছাড়াও নানুর, বোলপুর ও সিউড়ির একাধিক প্রভাবশালী কাউন্সিলর ও পঞ্চায়েত সদস্য।

কড়া নির্দেশ পুলিশকে: ইতিমধ্যেই জেলা পুলিশ প্রশাসনকে এই ৪৩ জনের নামের তালিকা ধরিয়ে দিয়েছে কমিশন। স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—এই নেতাদের গতিবিধি ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কোথাও কোনও অশান্তি বা গোলমালের খবর মিললে, কিংবা এঁদের প্ররোচনা নজরে এলে বিন্দুমাত্র দেরি না করে সরাসরি গ্রেফতার বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুর্গ গড়ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী: বীরভূমকে শান্ত রাখতে নিরাপত্তার ঘেরাটোপও নজিরবিহীন। জেলাজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে মোট ১৭৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। ৩,২৫৬টি বুথের মধ্যে প্রায় ১,৪০০ বুথকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দুবরাজপুর বাদে জেলার বাকি ১০টি বিধানসভা এলাকাতেই বাহিনীর টহলদারি ও নাকা চেকিং জোরদার করা হয়েছে।

কেন এই নজরদারি? নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য একটাই—পেশিশক্তির আস্ফালন রুখে সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থা ফেরানো। অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতিতে বা পরোক্ষ উপস্থিতিতে যাতে ভোট প্রক্রিয়া বিঘ্নিত না হয়, তার জন্যই এই ‘মাল্টি-লেয়ার’ নজরদারির পরিকল্পনা।

বীরভূমের লাল মাটিতে এবার ‘উন্নয়ন’ না কি ‘কমিশনের কড়াকড়ি’ শেষ কথা বলবে, তা জানার জন্য আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy