দীর্ঘ সাত বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সিকিমের নাথু লা পাস দিয়ে আবারও শুরু হতে চলেছে বহু কাঙ্ক্ষিত মানসরোবর কৈলাস যাত্রা। কেন্দ্রের সক্রিয় হস্তক্ষেপ এবং চিন সরকারের সম্মতির ফলেই এই পবিত্র যাত্রার পথ পুনরায় খুলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সিকিম প্রশাসন। আগামীকাল, ১৫ জুন, প্রথম ব্যাচের ৫০ জন পুণ্যার্থী গ্যাংটকে পৌঁছাবেন এবং ২০ জুন তাঁরা কৈলাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন।
প্রথম দলের যাত্রাসূচি: ২০ জুন নাথু লা অতিক্রমণ, মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতির সম্ভাবনা
সিকিম প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ব্যাচের ৫০ জন হিন্দু পুণ্যার্থী ১৫ জুন গ্যাংটকে পৌঁছাবেন। এরপর ২০ জুন তাঁরা নাথু লা সীমান্ত অতিক্রম করে পবিত্র কৈলাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। জানা গেছে, এই ঐতিহাসিক ‘ফ্ল্যাগ অফ’ অনুষ্ঠানে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং উপস্থিত থাকতে পারেন।
সিকিমের পর্যটন দফতরের প্রধান সচিব সিএস রাও জানিয়েছেন, পুণ্যার্থীদের জন্য চিকিৎসা, নিরাপত্তা এবং উচ্চতাজনিত সমস্যার সমাধানে সবরকম প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করা হয়েছে। গ্যাংটক ও নাথু লায় বিশেষ ‘অ্যাক্লাইমেটাইজেশন সেন্টার’ তৈরি করা হয়েছে, যাতে পুণ্যার্থীরা উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন।
কেন এতদিন বন্ধ ছিল এই পবিত্র রুট?
২০১৭ সালের ডোকলাম সংঘাত, ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষ এবং পরবর্তীকালে কোভিড অতিমারির জেরে দীর্ঘদিন ধরে নাথু লা রুটের কৈলাস যাত্রা বন্ধ ছিল। এই পবিত্র পথ পুনরায় চালুর জন্য ভারত সরকারের পক্ষ থেকে নিরন্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি চিন সফরে গিয়ে সেদেশের বিদেশসচিব সান ওয়েইডংয়ের সঙ্গে বৈঠকে এই যাত্রাপথ পুনরায় চালুর অনুরোধ জানান। এরপরই বেজিং থেকে সবুজ সংকেত আসে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ পাওয়ার পরপরই সিকিম সরকার পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকে নজর দেয় এবং সীমান্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
দুটি ধাপে ১৫টি পুণ্যার্থী দল পাঠানোর পরিকল্পনা
সিকিম প্রশাসনের সূত্র অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে পাঁচটি দল কৈলাস যাত্রা করবে, প্রতিটি দলে ৫০ জন করে পুণ্যার্থী থাকবেন। এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে একইভাবে আরও দশটি দল পাঠানো হবে। প্রতিটি দলের যাত্রার আগে পুণ্যার্থীদের উচ্চতাজনিত শারীরিক সমস্যার জন্য নির্দিষ্ট সময় গ্যাংটক ও নাথু লা-তে রাখা হবে, যাতে তাঁরা সুস্থভাবে যাত্রা সম্পন্ন করতে পারেন।
কৈলাস যাত্রার রুট ও ট্রেকিং বিশদ বিবরণ: এক পবিত্র পরিক্রমা
নাথু লা থেকে মানসরোবর পর্যন্ত দূরত্ব: প্রায় ১৫০০ কিমি।
লিপুলেখ লা ট্রেকিং রুট: প্রায় ৩৫ কিমি।
কৈলাস পরিক্রমা ট্রেকিং: পাহাড়ে প্রায় ৫২ কিমি হাঁটা লাগে, যা সাধারণত ৩ দিনে সম্পন্ন হয়। তবে শারীরিক সক্ষম পুণ্যার্থীরা ২ দিনেই শেষ করে ফেলতে পারেন।
এই ঐতিহাসিক যাত্রার তাৎপর্য: মানসরোবর-কৈলাস হিন্দু ধর্মে অত্যন্ত পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত। এই যাত্রা বহু মানুষের বহু বছরের স্বপ্ন। কেন্দ্র ও সিকিম সরকারের যৌথ প্রচেষ্টায় আবারও সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে, যা বহু পুণ্যার্থীর মুখে হাসি ফুটিয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতাই যে এই যাত্রা পুনরায় চালুর মূল চাবিকাঠি, তা এই ঘটনায় স্পষ্ট। এই যাত্রার মাধ্যমে ভারত-চিন সম্পর্কেও কি নতুন কোনো দিগন্ত উন্মোচিত হবে?





