দিল্লির মসনদ হারানোর পর এবার ঘর ভাঙল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের। আম আদমি পার্টির (AAP) অন্যতম হেভিওয়েট মুখ এবং রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা অবশেষে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখালেন। শুক্রবার এক বিস্ফোরক সাংবাদিক বৈঠকে নিজের বিজেপি যোগের কথা ঘোষণা করেন রাঘব। ১৫ বছরের দীর্ঘ পথচলা শেষ করে তাঁর এই ভোলবদল জাতীয় রাজনীতিতে বড়সড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
“সঠিক লোক, কিন্তু ভুল দলে” বিজেপিতে যোগ দিয়েই আপ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন ৩৭ বছর বয়সী এই তরুণ নেতা। রাঘব বলেন, “আমি গত ১৫ বছর ধরে আপ-এর জন্য রক্ত-ঘাম ঝরিয়েছি। কিন্তু বর্তমানে এই দল তার মূল নীতি থেকে সরে গিয়েছে। দল এখন দেশ নয়, ব্যক্তিগত স্বার্থে চলে। আমি অনুভব করছিলাম, সঠিক মানুষ হয়েও আমি ভুল দলে রয়েছি।” তাঁর অভিযোগ, দলে তাঁর মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
সাংসদদের লম্বা মিছিল বিজেপির পথে! রাঘব চাড্ডার এই পদত্যাগ আসলে হিমশৈলের চূড়ামাত্র। চাড্ডা নিজেই দাবি করেছেন, তাঁর সঙ্গে আপ-এর আরও ৬ জন রাজ্যসভার সাংসদ পদ্ম শিবিরে যোগ দিচ্ছেন। এই তালিকায় বড় নামগুলো হলো:
সন্দীপ পাঠক (আপ-এর অন্যতম রণকৌশলী)
অশোক মিত্তল
হরভজন সিং (প্রাক্তন ক্রিকেটার)
স্বাতী মালিওয়াল
বিক্রম সাহানি ও রাজেন্দর গুপ্তা
কেন এই বিদ্রোহ? রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যসভার ডেপুটি লিডারের পদ থেকে রাঘবকে সরিয়ে অশোক মিত্তলকে দায়িত্ব দেওয়া থেকেই সংঘাতের শুরু। মজার বিষয় হলো, যাঁর হাতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, সেই অশোক মিত্তলও এখন বিজেপির পথে। দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলের ভেতর জমা হওয়া ক্ষোভ এবার আছড়ে পড়ল প্রকাশ্যে।
কেজরিওয়ালের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রাঘব চাড্ডার এই দলবদল আম আদমি পার্টির অস্তিত্বের সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সামনেই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক লড়াই, তার আগে এই ‘সাংসদ-বিদ্রোহ’ সামলাতে কেজরিওয়াল কী চাল চালেন, সেটাই এখন দেখার।





