১০-এর মধ্যে ৭: কেজরিওয়ালের ডেরায় বড়সড় ধস! কোন আইনি চালে হার মানল সংবিধান?

ভারতীয় রাজনীতির এক অস্থির সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আম আদমি পার্টি (আপ)-র ঘর ভাঙলেন অরবিন্দ কেজরিওয়ালের একসময়ের ছায়াসঙ্গী রাঘব চাড্ডা। তবে দল ছাড়লেও তাঁর রাজ্যসভার সাংসদ পদ নিয়ে কোনও আইনি সংকটে পড়ছেন না তিনি। আর এখানেই কাজ করেছে সংবিধানের দশম তফশিলের সেই অমোঘ রক্ষাকবচ— ‘দুই-তৃতীয়াংশ’ সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিয়ম।

কেন পদ খোয়াচ্ছেন না রাঘব? ১৯৮৫ সালের ৫২তম সাংবিধানিক সংশোধনীর দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনও সাংসদ দল পরিবর্তন করলে তাঁর পদ খারিজ হতে পারে। তবে এর একটি বিশেষ ফাঁক বা ছাড়ের জায়গা রয়েছে। যদি কোনও দলের মোট সদস্যের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একযোগে দল ত্যাগ করেন বা অন্য দলে মেশেন, তবে তাঁদের অযোগ্য ঘোষণা করা যায় না।

রাজ্যসভায় আপ-এর মোট ১০ জন সাংসদের মধ্যে রাঘব চাড্ডার নেতৃত্বে ৭ জন (অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি) একযোগে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। ফলে ব্যক্তিগতভাবে দলত্যাগ বিরোধী আইনের খাঁড়া থেকে তাঁরা সম্পূর্ণ মুক্ত।

বিদ্রোহী শিবিরে কারা? রাঘবের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’-এ সামিল হয়েছেন দিল্লির রাজনীতির হেভিওয়েটরা:

  • রাঘব চাড্ডা

  • স্বাতী মালিওয়াল

  • হরভজন সিং

  • সন্দীপ পাঠক

  • অশোক মিত্তল

  • রাজিন্দর গুপ্ত

  • বিক্রম সাহনি

ক্ষোভের আগুনে পুড়ল ১৫ বছরের সম্পর্ক সংবাদমাধ্যমের সামনে আবেগপ্রবণ রাঘব বলেন, “যে দলকে নিজের রক্ত দিয়ে লালন করেছি, যে দলকে যৌবনের ১৫টি বছর দিয়েছি, আজ সেই দল নীতি ও নৈতিকতা বিসর্জন দিয়েছে। আপ এখন আর দেশের জন্য নয়, ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য কাজ করছে।”

দ্বন্দ্বের সূত্রপাত কোথায়? সম্প্রতি রাঘবকে রাজ্যসভার ডেপুটি লিডার পদ থেকে সরিয়ে দেয় আম আদমি পার্টি। দলের অভিযোগ ছিল, রাঘব দলীয় নির্দেশ মানছেন না। অন্যদিকে, রাঘবের পাল্টা দাবি— তাঁকে জনস্বার্থের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। ২০১২ সালে দলের প্রতিষ্ঠার সময় থেকে কেজরিওয়ালের বিশ্বস্ত লেফটেন্যান্ট হিসেবে পরিচিত রাঘবের এই প্রস্থান আপ-এর জন্য এক বিশাল ধাক্কা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।

২০১৫ সালে দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের হাত ধরে যে দলের উত্থান হয়েছিল, ২০২৬-এ এসে সেই দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামোই এখন খাদের কিনারায়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy