কে বসছেন বাংলার মসনদে? দিল্লি যাওয়ার আগে বড় ইঙ্গিত দিলেন মাস্টারমাইন্ড সুনীল বনসল!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্র ওলটপালট হয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্য গুঁড়িয়ে দিয়ে বাংলার ক্ষমতা দখল করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ঠিক পরেই এখন রাজ্যবাসীর মনে একটাই প্রশ্ন— কে হতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? ঠিক এই মাহেন্দ্রক্ষণেই জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলে দিল্লির পথে রওনা দিলেন বঙ্গ বিজেপির সাংগঠনিক সাফল্যের অন্যতম কারিগর ও দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল। তবে দিল্লি যাওয়ার পথে মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে এখন নতুন করে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

বিজেপির এই অভাবনীয় জয়ের নেপথ্যে পর্দার আড়ালে থেকে যিনি ঘুঁটি সাজিয়েছেন, তিনি সুনীল বনসল। উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশা এবং তেলেঙ্গানায় বিজেপিকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানোর পর অমিত শাহের এই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নেতাকে বাংলায় পাঠানো হয়েছিল। তথাকথিত ‘বহিরাগত’ তকমা মুছে ফেলে তিনি যেভাবে বুথ স্তরে সংগঠনের জাল বিস্তার করেছিলেন, তারই ফসল আজকের এই নির্বাচনী জয়। বাংলার কোণায় কোণায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুফল পৌঁছে দেওয়া এবং তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গে থাবা বসানোর কৃতিত্ব সিংহভাগই তাঁর ঝুলিতে।

ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই গেরুয়া শিবিরে উৎসবের মেজাজ। তবে এই আনন্দ-উৎসবের মাঝেই শুরু হয়েছে ক্ষমতার অলিন্দে নতুন লড়াই। দিল্লির সদর দপ্তর থেকে ডাক আসতেই বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ রাজধানী পাড়ি দিচ্ছেন। স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, তবে কি মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করতেই এই তড়িঘড়ি দিল্লি সফর? এই প্রশ্নের উত্তরে সুনীল বনসল অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে জানান, “সবাইকে অনেক অনেক অভিনন্দন। আমি দিল্লি যাচ্ছি ঠিকই, তবে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন সেই বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত কথা বা আলোচনা হয়নি।”

বনসলের এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে শান্তির বার্তার পাশাপাশি কিছুটা ধোঁয়াশাও বজায় রেখেছে। একদিকে যেমন শুভেন্দু অধিকারীর নাম জোরালোভাবে উঠে আসছে, অন্যদিকে কোনও প্রবীণ নেতা বা দিল্লি থেকে পাঠানো কোনও বিশেষ মুখ মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। কিন্তু বনসল স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বিজেপির মতো সুশৃঙ্খল দলে হঠকারী কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং সংসদীয় বোর্ড আলোচনার মাধ্যমেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিলমোহর দেবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বনসলের এই ‘নো কমেন্ট’ কৌশল আসলে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখারই অঙ্গ। তিনি নিজে ব্যক্তিগত প্রচারের চেয়ে সাংগঠনিক কাজেই বেশি বিশ্বাসী। বাংলায় বিজেপির এই বিশাল জয়ের পর এখন দেখার, দিল্লি থেকে কার নাম পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সিলমোহর পায়। বঙ্গ বিজেপির কান্ডারি সুনীল বনসলের এই সফরের দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy