কি আছে সেই আলমারিতে? আলিপুরে অগ্নিকাণ্ডের পর দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর তৎপরতায় তুঙ্গে জল্পনা

দক্ষিণ ২৪ পরগনার আলিপুরে জেলা পরিষদের নব প্রশাসনিক ভবনে বুধবারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার সকালে প্রশাসনিক ভবনের চার তলায় আগুন লাগার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে নয় তলা পর্যন্ত। বিধ্বংসী এই আগুনের গ্রাসে ভস্মীভূত হয়েছে অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং এনআইসি (NIC)-র দফতর। দমকলের ১২টি ইঞ্জিনের দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও, সরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যে ৩২৬(জি) (আগুন বা বিস্ফোরক দিয়ে সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি) এবং পিডিপিপি (PDPP) আইনের ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালেও ভবনের ৬, ৭ ও ৮ তলায় কুলিং প্রসেস চলে। নিরাপত্তার খাতিরে বৃহস্পতিবার নব প্রশাসনিক ভবন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং তথ্য সুরক্ষায় পুলিশি পিকেটিং বসানো হয়েছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ভবনের যে চার তলায় প্রথম আগুন লাগে, সেখানে ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান—যিনি বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন—তাঁর অফিস ঘর রয়েছে। এই ঘটনা সামনে আসতেই বিজেপির তরফে গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিজেপির দাবি, জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণ লোপাট করতেই সুপরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ইতিমধ্যেই ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট টিম পুলিশি তত্ত্বাবধানে চার তলার আলমারি কাটার কাজ শুরু করেছে। আলমারিগুলোর ভেতরে কী রয়েছে, তা নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা।

জেলা বন দফতরের ডিএফও নিশা গোস্বামী ফায়ার সার্ভিসের ডিভিশনাল অফিসারের সাথে পরিস্থিতির পর্যালোচনা করেছেন। সরকারি দফতরের জরুরি নথিপত্র এবং তথ্য কতটা সুরক্ষিত রয়েছে, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলেও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র থেকে যেভাবে সরকারি নথিপত্রের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে বিরোধীরা সরব হয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলছে, এই অগ্নিকাণ্ড নিছক দুর্ঘটনা নাকি তথ্য ধ্বংসের কৌশল?

বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নজরে রয়েছে। তদন্তকারী দল খতিয়ে দেখছে কোনো বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট না কি নাশকতা থেকে আগুনের সূত্রপাত। তবে আলিপুর প্রশাসনিক ভবনের এই অগ্নিকাণ্ড কেবল সরকারি সম্পদের ক্ষতি করেনি, বরং রাজ্যের শাসকদলের এক অভিযুক্ত নেতার যোগসূত্র থাকায় এটি রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক কাজকর্ম কবে থেকে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। উদ্ধার হওয়া নথিপত্র এবং আলমারির ভেতরের তথ্যই এই ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy