জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও সার্বভৌম অংশ—এই অবস্থানকে পুনরায় দৃঢ়ভাবে তুলে ধরে, চিন ও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক যৌথ বিবৃতির কড়া নিন্দা জানাল ভারত। গত কয়েকদিন ধরে পাকিস্তান ও চিনের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠকে কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন এবং তা নিয়ে বিতর্কিত যৌথ বিবৃতি প্রদানের প্রেক্ষিতে বুধবার ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে।
কী বলেছে ভারত? ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র সাফ জানিয়েছেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এই নিয়ে অন্য কোনো দেশের বা তৃতীয় পক্ষের কোনো ধরনের মন্তব্য বা হস্তক্ষেপ করার কোনো অধিকার নেই। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, “অযৌক্তিক এবং অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য করে সার্বভৌমত্বের বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ভারত এটি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করছে।”
কেন এই পরিস্থিতি? সম্প্রতি পাকিস্তান ও চিনের যৌথ বিবৃতিতে কাশ্মীর সংক্রান্ত ইস্যুতে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়, যা ভারতের নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, পাকিস্তান বরাবরই কাশ্মীর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে, আর চিন তাতে মদত দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়।
ভারতের কঠোর অবস্থান: ভারত সরকার বারবারই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে:
জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের সংবিধানের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
এই অঞ্চলে ভারতের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং উন্নয়নমূলক পদক্ষেপগুলি একান্তই ভারতের নিজস্ব এখতিয়ারভুক্ত।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তান ও চিনের আঁতাত ভারতের আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি অবমাননাকর।
বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ভারত তার নিজস্ব অবস্থানে অটল এবং প্রতিবেশী দেশগুলির এই ধরনের উস্কানিমূলক কার্যকলাপের জবাব দিতে ভারত সবসময় প্রস্তুত। এই ঘটনাটি ফের প্রমাণ করল, ভারত বিরোধী শক্তিগুলো জোট বাঁধলেও ভারতের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে তাদের কোনো প্রভাব পড়ার সুযোগ নেই।





