মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরেই নিজের বাসভবন নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার আর নিউটাউনের চিনারপার্ক নয়, বরং দক্ষিণ কলকাতার অতি ভিভিআইপি এলাকা আলিপুরেই পাকাপাকিভাবে থাকতে চলেছেন বাংলার নয়া মুখ্যমন্ত্রী। রবিবার এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক এই খবরে সিলমোহর দিয়েছেন।
মমতার কালীঘাটের ঠিক পাশেই শুভেন্দু! রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর নয়া বাসভবনের অবস্থান নিয়ে। আলিপুরের যে ‘সৌজন্য’ অতিথি নিবাসে শুভেন্দু অধিকারী থাকতে চলেছেন, সেখান থেকে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির দূরত্ব মাত্র এক কিলোমিটারের আশেপাশে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই নেতার বাসভবন এত কাছাকাছি হওয়াকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
৫৫ বছরের প্রথা ভাঙছেন শুভেন্দু পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ইতিহাসে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য কোনও নির্দিষ্ট সরকারি বাসভবন নেই। সিদ্ধার্থ শঙ্কর রায় থেকে শুরু করে জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়— বিগত ৫৫ বছর ধরে রাজ্যের সমস্ত মুখ্যমন্ত্রীই কলকাতার বাসিন্দা ছিলেন এবং নিজেদের ব্যক্তিগত বাড়ি থেকেই রাজকার্য সামলেছেন। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র হওয়ায় কলকাতায় তাঁর একটি স্থায়ী এবং সুরক্ষিত ঠিকানার প্রয়োজন ছিল। সেই কারণেই জাজেস কোর্ট রোডের ‘সৌজন্য’কে বেছে নেওয়া হয়েছে।
রাজকীয় ‘সৌজন্য’র ইতিহাস প্রসঙ্গত, আলিপুরের এই ‘সৌজন্য’ অতিথি নিবাসটি আগের তৃণমূল সরকারের আমলেই তৈরি করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর উদ্বোধন করেন। মূলত ভিন রাজ্যের ভিভিআইপি এবং বিদেশি অতিথিদের থাকার জন্য এই রাজকীয় অতিথিশালাটি তৈরি করা হয়। এবার সেটিই হতে চলেছে বাংলার নয়া মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন।
নিরাপত্তার কড়াকড়ি সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে ইতিমধ্যেই ‘সৌজন্য’-তে প্রয়োজনীয় রদবদল ও সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানোর কাজ শুরু হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনে ‘জায়ান্ট কিলার’ তকমা পাওয়া শুভেন্দুর হাই-প্রোফাইল নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই এই প্রস্তুতি। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঠিক কবে তিনি চিনারপার্কের ফ্ল্যাট ছেড়ে এখানে উঠবেন, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
বাংলার ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু এখন কালীঘাটের খুব কাছেই সরে আসায় সরগরম রাজ্য রাজনীতি। নয়া মুখ্যমন্ত্রীর এই স্থানান্তর কি কেবল ভৌগোলিক, নাকি এর পেছনে কোনও রাজনৈতিক বার্তাও রয়েছে— তা নিয়েই এখন জোর চর্চা চলছে তিলোত্তমায়।





