‘কাপুরুষের দল, অন্যায় করলে ফোঁস করতে হয়!’-বিজেপিকে চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

সোমবার ধর্মতলার ধরনামঞ্চে বক্তব্য রাখছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তখনই তাঁর নজরে আসে মঞ্চের আশেপাশে কিছু যুবক লিফলেট বিলি করছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগামী ১৪ মার্চ বিজেপির ‘ব্রিগেড চলো’ কর্মসূচির প্রচার চালানো হচ্ছে তৃণমূলের ধরনামঞ্চের ঠিক সামনেই। বিষয়টি নজরে আসতেই মেজাজ হারান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘বিজেপি চোরদের ধরুন’, মঞ্চ থেকে নির্দেশ মমতার
মঞ্চ থেকেই কর্মীদের সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এমনি ঢুকে মিটিং শুনতে পারেন, কিন্তু বিজেপির লিফলেট বিলির কোনও অধিকার নেই। এদের হাতেনাতে ধরুন এবং পুলিশকে হ্যান্ডওভার করুন।” তিনি আরও যোগ করেন, “মানুষের সমর্থন নেই, তাই চোরের মতো লিফলেট বিলি করতে এসেছে। কাপুরুষের দল!”

আরও পড়ুন: ‘ডোন্ট শাউট!’ মিটিংয়ে নাকি চন্দ্রিমাকে বলেছেন জ্ঞানেশ, ঠিক কী হয়েছে? জানালেন ফিরহাদরা

মারাত্মক অভিযোগ ও এফআইআর-এর নির্দেশ
এদিন মঞ্চ থেকেই শশী পাঁজাকে অবিলম্বে এফআইআর (FIR) করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন:

কেন্দ্রীয় এজেন্সি: “এরা নিজেরা শয়তানি করে অন্যের নামে দোষ দেয়। এনআইএ-তে (NIA) ঢোকায়। ইডি-সিবিআই দিয়ে অন্যদের জব্দ করে।”

ধৈর্যের সীমা: “তৃণমূল সংবেদনশীল দল, কিন্তু ওরা ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অন্যায় করলে ফোঁস করতে হয়।”

ধরা পড়ল দুই অভিযুক্ত
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের কিছুক্ষণ পরেই ভিড়ের মধ্যে থেকে দু’জনকে চিহ্নিত করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই সেই পোস্টার এবং লিফলেট বিলি করা দুই যুবকের ছবি সামনে আনেন। তিনি জানান, পুলিশের চোখ এড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও তাদের ধরা হবেই। পরে পুলিশ ওই দুই যুবককে আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগেই ধর্মতলার এই ‘পোস্টার যুদ্ধ’ রাজ্যের রাজনৈতিক পারদকে যে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy