পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোর অনুদান নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতুহল। ২০১৮ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন প্রথমবার ১০ হাজার টাকা করে পুজো অনুদান ঘোষণা করেছিলেন, তখন কেউ ভাবতেও পারেনি এই অঙ্ক কয়েক বছরের মধ্যে লক্ষাধিক টাকায় পৌঁছাবে। প্রতি বছর ধাপে ধাপে অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে ২০২৫ সালে তা ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকায় পৌঁছায়, যার ফলে রাজ্যের কোষাগার থেকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা খরচ করতে হয়েছিল। সেই সময়ে বিরোধীরা এই বিপুল ব্যয়ের তীব্র সমালোচনা করেছিল। এখন রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে, রাজ্যে ক্ষমতায় বিজেপি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ২০২৬ সালে কি পুজোর অনুদান বজায় থাকবে?
এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, পুজোর অনুদানের বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। বিষয়টি তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের অধীন, যার দায়িত্বে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। এ প্রসঙ্গে রাজ্যের নয়া প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “পুজো অনুদান কেবল তারাই পাবেন, যাদের সত্যিই অর্থের প্রয়োজন।” অর্থাৎ, সরকারের অর্থের অপচয় রোধ করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
তিনি সাফ জানিয়েছেন, যেসব ক্লাব বা পুজো কমিটি বিপুল আয়ের উৎস থাকা সত্ত্বেও সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে অনুদান দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে ভাবা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সরকারি টাকা যাদের প্রয়োজন নেই, তাদের দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। যারা অর্থের অভাবে পুজো করতে হিমশিম খাচ্ছেন, তাদের জন্যই এই সাহায্য বরাদ্দ থাকবে।” তবে মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, পুজোর উৎসাহে কোনো খামতি থাকবে না, বরং পুজো আরও বড় করে এবং আনন্দঘন পরিবেশে আয়োজিত হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল থেকে শুরু হওয়া এই অনুদানের যাত্রা ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ২০১৯ সালে ২৫ হাজার, ২০২০-২১ সালে ৫০ হাজার, ২০২২ সালে ৬০ হাজার, ২০২৩ সালে ৭০ হাজার এবং ২০২৪ সালে ৮৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছায় অনুদানের পরিমাণ। পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলে বিশেষ ছাড় ও ফায়ার লাইসেন্স ফি মকুবের মতো সুবিধাও পেতেন উদ্যোক্তারা। কিন্তু এখন সরকার বদলের সাথে সাথে অনুদানের নীতিতেও যে আমূল পরিবর্তন আসছে, তা মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট।
পুজো উদ্যোক্তাদের একাংশের মনে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও, সরকারের এই ‘প্রয়োজনভিত্তিক অনুদান’ প্রদানের সিদ্ধান্তকে স্বচ্ছতা আনার উপায় হিসেবে দেখছেন অনেকে। এখন দেখার বিষয়, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের চূড়ান্ত নির্দেশিকায় কারা এই অনুদানের যোগ্য বলে বিবেচিত হন এবং ২০২৬ সালে পুজোর আনন্দে সরকার কীভাবে সামিল হয়। সাধারণ মানুষ এবং ক্লাব কর্মকর্তাদের নজর এখন সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।





