দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী মানুষের জন্য বড় খবর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে শ্রম আইন সংস্কারের পথে হাঁটল কেন্দ্রীয় সরকার। দৈনিক কাজের সময়সীমা নির্ধারণ থেকে শুরু করে ন্যূনতম মজুরি কাঠামো— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে নতুন শ্রম বিধি (New Labour Codes) কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু করল কেন্দ্র।
সরকারি সূত্রে খবর, নতুন এই বিধিতে মূলত শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ উন্নত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তবে এর ফলে সাধারণ চাকরিজীবীদের টেক-হোম স্যালারি বা হাতে পাওয়া বেতনের পরিমাণে কিছুটা রদবদল ঘটতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কাজের সময় ও সাপ্তাহিক ছুটি
নতুন শ্রম বিধির অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো কাজের সময়সীমা। সংশোধিত নিয়মে দৈনিক কাজের সময় ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত করার সংস্থান রাখা হয়েছে। তবে সে ক্ষেত্রে সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা কাজের সীমা বজায় রাখতে হবে। অর্থাৎ, কোনও প্রতিষ্ঠান চাইলে দিনে ১২ ঘণ্টা কাজ করিয়ে সপ্তাহে তিন দিন ছুটি দেওয়ার মডেল বেছে নিতে পারবে। যদিও এই বিষয়টি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক এবং নিয়োগকর্তা ও কর্মীর আলোচনার ভিত্তিতেই কার্যকর হতে পারে।
ন্যূনতম মজুরি ও টেক-হোম স্যালারি
নতুন বিধিতে ‘মজুরি’ বা স্যালারির সংজ্ঞাও স্পষ্ট করা হয়েছে। বলা হয়েছে, একজন কর্মীর মূল বেতন (Basic Salary) হতে হবে তাঁর মোট বেতনের অন্তত ৫০ শতাংশ। এর ফলে কর্মীদের পিএফ (PF) এবং গ্র্যাচুইটির পরিমাণ বাড়বে, যা তাঁদের অবসরের পরবর্তী জীবনকে আরও সুরক্ষিত করবে। তবে পিএফ-এ বেশি টাকা কাটার কারণে প্রতি মাসে হাতে পাওয়া বেতনের পরিমাণ সামান্য কমতে পারে।
নারী সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা
অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য এই নতুন বিধি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হতে চলেছে। পরিযায়ী শ্রমিক থেকে শুরু করে গিগ ওয়ার্কার্স— সবার জন্যই বিমা ও পেনশনের মতো সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আসার পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, নারীদের জন্য নৈশকালীন শিফটে কাজ করার ক্ষেত্রে সুরক্ষা এবং উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শিল্পমহলের একাংশের মতে, এই সংস্কারের ফলে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও উন্নত হবে এবং ব্যবসা করা সহজ হবে (Ease of Doing Business)। অন্যদিকে, শ্রমিক ইউনিয়নগুলির নজর এখন এই আইনের বাস্তবায়নের দিকে। কেন্দ্র সবুজ সংকেত দিলেও রাজ্যগুলো কীভাবে এই নিয়মগুলো ধাপে ধাপে কার্যকর করে, এখন সেটাই দেখার।





