আসানসোল জেলা হাসপাতালের বেহাল পরিকাঠামো এবং অব্যবস্থা নিয়ে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। বৃহস্পতিবার রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে যোগ দিয়ে তিনি হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে বললেন, “যদি এখানে কাজ করতে না পোষায়, তবে আপনারা অবসর নিন বা ইস্তফা দিন। কিন্তু কর্মসংস্কৃতি মেনেই কাজ করতে হবে।”
রাজ্যে পরিবর্তনের পর এই প্রথম আসানসোল জেলা হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে ডাক পেলেন অগ্নিমিত্রা পাল। বৈঠকে যোগ দিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত পাঁচ বছর আমি বিধায়ক থাকা সত্ত্বেও আমায় কোনোদিন এই বৈঠকে ডাকা হয়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে এই বঞ্চনা ছিল অভ্যাসের অংশ।”
বৈঠক শেষে বেরিয়ে মন্ত্রী হাসপাতালের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে সরাসরি তোপ দাগেন। তিনি বলেন, “হাসপাতালের করিডোরে যেখানে-সেখানে পিক, আবর্জনা, ব্যবহৃত ব্যান্ডেজ পড়ে রয়েছে। বাথরুমের অবস্থা এতই খারাপ যে দুর্গন্ধে টেকা দায়। আমি সাফ নির্দেশ দিয়েছি, দিনে অন্তত দুবার ফিনাইল দিয়ে ঘর মুছতে হবে এবং প্রতিটা কোণ হোয়াইটওয়াশ করাতে হবে। আমি যেকোনো সময় হঠাৎ করে হাসপাতালে হানা দেব।”
হাসপাতালের পরিকাঠামোগত অভাব নিয়েও মন্ত্রী ছিলেন সোচ্চার। তিনি জানান, হাসপাতালের পাঁচিল না থাকায় অবাধে গবাদি পশু ঢুকছে, সদর গেটে নিরাপত্তাহীনতার কারণে টোটো চালকদের দৌরাত্ম্য চলছে। র্যাম্পের অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আগুন লাগলে হুইলচেয়ার নিয়ে রোগীদের বের করার কোনো ব্যবস্থাই নেই।”
মন্ত্রী আরও জানান, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। অনেকেই সময়মতো আসেন না এবং সরকারি ডিউটির বদলে অন্য শহরে ব্যক্তিগত চেম্বার করতে বেশি ব্যস্ত থাকেন। অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে কোনো জবাবদিহি ছিল না। পাবলিকের ট্যাক্সের টাকায় আয়েশ করে লুটেপুটে খাওয়া এখন থেকে আর হবে না। খুব শীঘ্রই বায়োমেট্রিক হাজিরা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।”
হাসপাতালের ন্যায্যমূল্যের ওষুধের দোকানের অচল অবস্থা নিয়েও মন্ত্রী ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, “ঠিকা শেষ হওয়ার পরেও যিনি জায়গা দখল করে আছেন, তাঁকে দুদিনের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপর পুলিশ দিয়ে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে নতুন টেন্ডারপ্রাপ্তকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। দোকান ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখতে হবে।” মন্ত্রীর এই কড়া অবস্থানের ফলে আসানসোল জেলা হাসপাতালে এখন কর্মসংস্কৃতি ফেরানোর চাপে কাঁপছে প্রশাসন।





