দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে বিজেপির নবনির্বাচিত জিএস (সাধারণ সম্পাদক) অরুণ সেনগুপ্তকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং এর নেপথ্যে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের হাত রয়েছে নাকি বিজেপির অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দায়ী, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার গভীর রাতে অরুণ সেনগুপ্তকে তাঁর বাড়ি থেকে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। মারধরের পর তিনি কাকদ্বীপ থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
অরুণ সেনগুপ্ত অভিযোগ করেছেন যে, তাঁকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে। তবে কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিতভাবে কিছু জানাতে পারেননি।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এই হামলার জন্য সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেছে। তাঁদের অভিযোগ, পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূল বিজেপি কর্মীদের উপর লাগাতার হামলা চালাচ্ছে এবং এটি তারই অংশ। বিজেপির জেলা সভাপতি জানিয়েছেন, তাঁরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছেন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, এই ঘটনা বিজেপির অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। তৃণমূলের এক নেতা বলেছেন, “বিজেপির নিজেদের মধ্যেই বিভেদ রয়েছে। তাদের কোন্দলের ফলস্বরূপ এই ধরনের ঘটনা ঘটছে, অযথা তৃণমূলকে দোষারোপ করা হচ্ছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা কাকদ্বীপের স্থানীয় রাজনীতিতে আরও উত্তেজনা বাড়াবে। আগামী দিনে পুলিশি তদন্তে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে নাকি রাজনৈতিক তরজা চলতে থাকবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে নবনির্বাচিত একজন জিএসকে এভাবে মারধরের ঘটনা বিজেপির স্থানীয় সংগঠনে প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।