হিন্দুধর্মে মহাদেব বা ভগবান শিবের আরাধনায় ‘কাওয়ার যাত্রা’ এক অনন্য ও পবিত্র প্রথা। ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রাবণ মাসে গঙ্গাজল নিয়ে শিবলিঙ্গে অভিষেক করলে জীবনের সব দুঃখ দূর হয় এবং ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, সমুদ্র মন্থনের সময় বিষ পান করে জগতকে রক্ষা করেছিলেন শিব। সেই উত্তাপ প্রশমনে দেবতারা তাঁকে জল অর্পণ করেছিলেন, আর সেখান থেকেই এই জলভিষেকের প্রথা।
তবে অনেকেরই ধারণা, কাওয়ার যাত্রা শুধুমাত্র শ্রাবণ মাসেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু শাস্ত্রমতে এমন আরও চারটি বিশেষ উপলক্ষ রয়েছে, যখন ভক্তরা এই যাত্রার মাধ্যমে দেবাদিদেব শিবের সন্তুষ্টি অর্জন করেন।
শ্রাবণ ছাড়াও যে ৪ সময়ে হয় কাওয়ার যাত্রা:
১. মহাশিবরাত্রি: শিব ও দেবী পার্বতীর মিলনের প্রতীক এই দিনটি। মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে বহু ভক্ত পবিত্র নদী থেকে জল সংগ্রহ করে শিব মন্দিরে যান, যা কাওয়ার যাত্রারই একটি রূপ।
২. মাসিক শিবরাত্রি: প্রতি মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে মাসিক শিবরাত্রি পালিত হয়। এই বিশেষ দিনে অনেক ভক্তই শিবলিঙ্গে অভিষেক করার জন্য সংক্ষিপ্ত কাওয়ার যাত্রা পালন করে থাকেন।
৩. প্রদোষ ব্রত: প্রতি মাসের কৃষ্ণপক্ষ ও শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে এই ব্রত পালিত হয়। প্রদোষকালে শিবের আরাধনার জন্য এটি একটি অত্যন্ত শুভ সময়। অনেক ভক্তই এই দিনে স্বল্প দূরত্বে কাওয়ার যাত্রা করে শিবের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।
৪. কার্তিক মাস: স্থানীয় কিছু ঐতিহ্য ও পরম্পরা অনুযায়ী, কার্তিক মাসেও শিব মন্দিরে জল অর্পণ করার রীতি রয়েছে। যদিও শ্রাবণ মাসের মতো এটি ব্যাপক নয়, তবুও অনেক জায়গায় এই মাসেও কাওয়ার যাত্রার আয়োজন করা হয়।
যাত্রার তাৎপর্য: ভগবান শ্রীরাম স্বয়ং কাওয়ার যাত্রার সূচনা করেছিলেন বলে লোকবিশ্বাস রয়েছে। আজও সেই ঐতিহ্য বহন করে চলেছেন কোটি কোটি শিবভক্ত। শ্রাবণ মাস ২০২৬ সালে আগামী ৩০ জুলাই থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত পালিত হবে। ভক্তরা অধীর আগ্রহে এই সময়ের অপেক্ষা করছেন।
ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি মানুষের মনের অটল ভক্তিই এই যাত্রাকে আজও একইভাবে জীবন্ত ও জনপ্রিয় করে রেখেছে।





