দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন, রক্তাক্ত ছাত্র আন্দোলন এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান। বাংলাদেশের মসনদে ফিরল বিএনপি। আর জয়ের মুকুট মাথায় পরেই প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্দেশে কড়া ও স্পষ্ট বার্তা দিলেন দলের কাণ্ডারি তারেক রহমান।
শনিবার নির্বাচনের ফলাফল আসতেই দেখা যায়, ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২১২টিতেই জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিএনপি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে জনমত কোন দিকে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল ছিল। জয়ের পর প্রথম সাংবাদিক বৈঠকেই সেই জল্পনার অবসান ঘটালেন তারেক রহমান।
‘প্রভু নয়, বন্ধু চাই’
ভারত, চীন নাকি পাকিস্তান— নতুন সরকার কার দিকে ঝুঁকবে? এই প্রশ্নের উত্তরে একচুলও রেয়াত করেননি বিএনপি প্রধান। তিনি সাফ জানান, “বাংলাদেশ তার কৌশলগত স্বাধীনতা বজায় রাখবে। আমরা কারো প্রতি বিশেষ পক্ষপাতিত্ব করব না।” তারেক রহমানের কথায়, এখন থেকে বাংলাদেশের বিদেশনীতির একমাত্র ভিত্তি হবে ‘জাতীয় স্বার্থ’। কোনো বিশেষ দেশ নয়, বরং সার্বভৌমত্ব বজায় রাখাই হবে অগ্রাধিকার।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “কাউকে ‘প্রভু’ হিসেবে দেখা হবে না। ভারত, চীন বা পাকিস্তান— সবার সঙ্গে সমদূরত্ব বজায় রেখে বাস্তববাদী কূটনীতি অনুসরণ করবে নতুন সরকার।”
‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই বার্তায় স্পষ্ট যে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের মতো আঞ্চলিক শক্তির চাপের মুখে নতিস্বীকার করতে নারাজ। ১৭ বছর দেশের বাইরে থাকার পর ফিরে এসে তিনি দেশের যুবসমাজ এবং সাধারণ মানুষের সেন্টিমেন্টকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর বার্তায় ফুটে উঠেছে এক নতুন ‘স্বনির্ভর’ বাংলাদেশের ছবি।
তারেক রহমানের কথায়, “আমাদের বিদেশনীতি খুব সহজ— বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশিদের স্বার্থই সবার আগে। প্রতিটি দেশের জন্য আমাদের মাপকাঠি হবে একটাই।” রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী এই স্থিতিশীলতা ফেরানোই এখন নতুন সরকারের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে ভঙ্গুর অর্থনীতি সংস্কার, অন্যদিকে ভারসাম্যপূর্ণ বিদেশনীতি— তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ কোন পথে হাঁটে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে দক্ষিণ এশিয়া।