ভারত ও বাংলাদেশের প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষায় আসতে চলেছে আমূল পরিবর্তন। চিরাচরিত কাঁটাতার ও সেনাসদস্যদের পাশাপাশি এবার সীমান্ত নজরদারিতে প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। বিশেষ করে ড্রোন নজরদারি, রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বিত টহলের মাধ্যমে সীমান্তকে দুর্ভেদ্য করে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক বিএসএফ ও বিজিবি-র চার দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নতুন কৌশলের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অভিবাসন, চোরাচালান এবং মানব পাচার দুই দেশের কাছেই উদ্বেগের কারণ ছিল। ভারত সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া সীমান্ত পারাপার এখন থেকে কঠোরভাবে দমন করা হবে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরার মতো রাজ্যগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। বিজিবি ও বিএসএফের যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তারা এখন ‘সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা’ নিয়ে কাজ করবে, যেখানে এআই-ভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা যুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ এই বিষয়টিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখছে। তাদের অভিযোগ, আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়া জোরপূর্বক কাউকে ফেরত পাঠানো বা সীমান্ত পার করা গ্রহণযোগ্য নয়। উভয় দেশই যদিও সীমান্তে শান্তি ও সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছে, তবুও অনুপ্রবেশের মতো ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। নজরদারির এই নতুন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় ২৪ ঘণ্টা নজর রাখা সম্ভব হবে নদী ও বনভূমির মতো দুর্গম এলাকাগুলোতে, যেখানে এতদিন সেনাসদস্যদের উপস্থিতি ছিল চ্যালেঞ্জিং।
উভয় দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো মনে করছে, ড্রোন ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় অনুপ্রবেশকারী ও চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনবে। আগামী নভেম্বরে ঢাকায় পরবর্তী উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে পর্যন্ত যৌথ অভিযানের মাধ্যমেই সীমান্তকে সুরক্ষিত রাখার কঠোর নির্দেশ জারি হয়েছে।





