কলকাতার রাজপথে ৮০ হাজার ‘আশা’র গর্জন! ভোটমুখী বাংলায় নাড়িয়ে দিল মমতা সরকারকে?

ভোটের বাদ্যি বাজতেই সরগরম রাজ্য রাজনীতি। আর সেই আবহেই বুধবার কলকাতার রাজপথ দেখল এক নজিরবিহীন দৃশ্য। ভাতা বৃদ্ধি এবং বকেয়া মেটানোর দাবিতে প্রায় ৮০ হাজার আশা কর্মী নামলেন আন্দোলনে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কড়া হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই শহরের বুক কার্যত স্তব্ধ করে দিলেন এই স্বাস্থ্য যোদ্ধারা। যা নিয়ে এখন তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা।

নেপথ্যে কারা? রাজনীতির অভিযোগ বনাম অধিকারের লড়াই আন্দোলনের শুরু থেকেই আশা কর্মীদের হাতে দেখা গিয়েছে SUCI-এর শ্রমিক সংগঠন AIUTUC-র পোস্টার। এই জমায়েত নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি সাফ জানান, “রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্যই এই আন্দোলন। আপনারা হয়তো তাঁদের কিছু চাঁদাও দেন বলে শুনেছি।” তবে সরকারের এই অভিযোগকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন AIUTUC-র রাজ্য সম্পাদক অশোক দাস। তাঁর পাল্টা দাবি, “সরকার শুধু ভোট বোঝে। কিন্তু আমরা শ্রমজীবী মানুষের অধিকারের কথা বলি। বাংলার সমস্ত আশা কর্মীরা আজ একজোট, এখানে দল বড় কথা নয়।”

একসময়ের বন্ধু, এখন ঘোর বিরোধী! উল্লেখ্য, ২০১১ সালের পরিবর্তনের লড়াইয়ে তৃণমূলের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছিল এসইউসিআই (SUCI)। কিন্তু আজ পরিস্থিতি ভিন্ন। হঠাৎ কেন এই বিরোধ? অশোক দাসের কথায়, “আমরা সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে। সেটা তৃণমূল হোক বা বিজেপি। আমরা ভোটের জন্য রাজনীতি করি না, শ্রমজীবী মানুষের মুক্তির জন্য লড়ি।” ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ১৯৫২ সাল থেকে দেশে ভোট হলেও সাধারণ মানুষের অবস্থার পরিবর্তন হয়নি।

ভোটের মুখে অস্বস্তিতে নবান্ন? একদিকে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব, অন্যদিকে হাজার হাজার মহিলার এই ভিড়— সব মিলিয়ে ভোটের মুখে শাসক শিবিরের অস্বস্তি যে বেড়েছে, তা বলাই বাহুল্য। আশা কর্মীদের এই আন্দোলন কি ইভিএমে প্রভাব ফেলবে? উত্তরের অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy