বর্ষা এলেই কলকাতার রাস্তা আর ড্রেনের নোংরা জলের একাকার হওয়ার ছবিটা যেন চিরস্থায়ী। তবে এবার সেই চেনা জলজট থেকে শহরবাসীকে মুক্তি দিতে কোমর বেঁধে নেমেছে কলকাতা পুরসভা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক নির্দেশিকার ওপর ভিত্তি করে সোমবার উত্তর কলকাতার মোহিত মৈত্র মঞ্চে এক উচ্চপর্যায়ের ‘প্রাক-বর্ষা প্রস্তুতি বৈঠক’-এর আয়োজন করা হয়েছে।
বৈঠকের মূল লক্ষ্য: শহরের জল নিকাশি ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোই এই বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য। মূলত ১ থেকে ৭ নম্বর বরোর অন্তর্গত এলাকাগুলোতে বর্ষাকালীন সমস্যা মোকাবিলায় একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। বৈঠকে যে বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে:
জল নিকাশি ও পাম্পিং স্টেশন: বর্ষায় জমা জল দ্রুত নামানোর জন্য শহরের সমস্ত পাম্পিং স্টেশনের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা।
রাস্তা ও পরিকাঠামো: বর্ষার মরশুমে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা দ্রুত মেরামত এবং ম্যানহোল ও নিকাশি নালা সাফাইয়ের অগ্রগতি পর্যালোচনা।
নিরাপত্তা: খোলা তার বা বিদ্যুতের খুঁটি থেকে বর্ষায় যে প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে, তা রুখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ।
বৈঠকে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমন্বয়: এই বৈঠকে প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের এক ছাতার তলায় নিয়ে এসেছে পুরসভা। বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে চৌরঙ্গী, এন্টালি, বেলেঘাটা, জোড়াসাঁকো, শ্যামপুকুর, মানিকতলা এবং কাশীপুর-বেলগাছিয়া— এই সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়কদের। এছাড়া ১ থেকে ৫৯ নম্বর ওয়ার্ডের সমস্ত কাউন্সিলর এবং পুরসভার ড্রেনেজ, জল সরবরাহ, বিদ্যুৎ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পদস্থ আধিকারিকরাও এই সমন্বয় বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
কেন এই বৈঠক তাৎপর্যপূর্ণ? পুরসভার মতে, বিধায়ক ও কাউন্সিলররা সরাসরি মাটির মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তাঁরা এলাকার সমস্যাগুলো সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো অবগত। তাই তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করতে চায় পুর কর্তৃপক্ষ। শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটি খুঁজে বের করে তা যুদ্ধের ভিত্তিতে সারিয়ে তোলাই এই বৈঠকের আসল উদ্দেশ্য।





