ভোটমুখী বাংলায় এবার জাতীয় নিরাপত্তা এবং পাকিস্তানের হুমকি ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নদিয়ার বেথুয়াডহরির জনসভা থেকে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মোদির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, নির্বাচনের আগে ফের কোনও বড়সড় ‘ব্লু প্রিন্ট’ তৈরি হচ্ছে না তো?
কলকাতায় হামলার হুমকি ও মোদির নীরবতা: সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ সরাসরি কলকাতায় হামলার হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, “ভারত আর একবার আক্রমণ করলে তার প্রভাব পড়বে কলকাতায়।” এই প্রসঙ্গ টেনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন গর্জে ওঠেন। তিনি বলেন:
“পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলছেন কলকাতাকে আক্রমণ করবেন, আর নরেন্দ্র মোদি রাজ্যে এসেও এই নিয়ে চুপ করে আছেন কেন? কেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হলো না? আমি এই গোটা ঘটনার তদন্ত চাই।”
পহেলগাঁও ও অপারেশন সিঁদুরের স্মৃতি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণের প্রেক্ষাপটে উঠে এসেছে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিলের সেই অভিশপ্ত দিনটি। জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে পর্যটকদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা, যেখানে ২৫ জন নিরীহ পর্যটককে প্রাণ হারাতে হয়েছিল। এর জবাবে ভারত গত বছর ৭ মে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। সেই স্মৃতি উস্কে দিয়েই মমতা প্রশ্ন তুলেছেন, নির্বাচনের আগে আবার কি তেমন কোনও পরিস্থিতির অপেক্ষা করা হচ্ছে?
দিল্লি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি: মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাংলাকে দুর্বল ভাবলে ভুল করবে কেন্দ্র। তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “বাংলার মানুষকে টার্গেট করলে, বাংলা এবার সরাসরি দিল্লিকে টার্গেট করবে।” নির্বাচনী প্রচারের মঞ্চ থেকে তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
তৃণমূলের প্রশ্ন: তৃণমূল নেত্রীর দাবি, সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব কেন্দ্রের। সেখানে অনুপ্রবেশ বা বিদেশের হুমকি এলে তার দায় প্রধানমন্ত্রীকেই নিতে হবে। স্রেফ নির্বাচনের আগে ‘লোক দেখানো’ জাতীয়তাবাদ না দেখিয়ে কেন প্রকৃত অ্যাকশন নেওয়া হচ্ছে না, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভোটের আবহে পাকিস্তান এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে মমতার এই ‘আক্রমণাত্মক’ অবস্থান বাংলার নির্বাচনী লড়াইকে এক নতুন মাত্রা দিল।





