পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়ের পর গঙ্গার ওপারে বাংলাদেশে এখন শুধুই উদ্বেগের কালো মেঘ। গত কয়েক দশকে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশের ফলে জনবিন্যাস বদলে যাওয়ার যে অভিযোগ বিজেপি বারবার করে এসেছে, এবার সেই ইস্যুতে কড়া পদক্ষেপের আশঙ্কায় কাঁপছে ঢাকা। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রকাশ্যে এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ভারতের সীমান্ত এলাকায় বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি যেন কোনোভাবেই ‘পুশব্যাক’ বা জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার মতো ঘটনা না ঘটায়। যদিও তিনি কূটনৈতিক সৌজন্য বজায় রেখে বলেছেন, “আমি আশা করি এমন কোনো ঘটনা ঘটবে না”, কিন্তু তাঁর শরীরের ভাষায় স্পষ্ট যে তিনি যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB)-কে ভারত সীমান্তে ‘হাই অ্যালার্ট’ বা উচ্চ সতর্কতায় থাকার কড়া নির্দেশ দিয়েছে সে দেশের প্রশাসন।
দীর্ঘদিন ধরে ভারত অভিযোগ করে এসেছে যে, পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের সীমান্ত দিয়ে হাজার হাজার অবৈধ বাংলাদেশি ভারতে প্রবেশ করেছে। এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং সম্পদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিজেপি নেতারা নির্বাচনী প্রচারে বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে বিতাড়িত করা হবে। এখন রাজ্যে গেরুয়া ঝড় ওঠার পর সেই অবস্থান আরও কঠোর হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
তবে বাংলাদেশের এই উদ্বেগকে ভারতের একাংশ ‘দ্বিচারিতা’ বলে সমালোচনা করছে। কারণ, ভারত থেকে পাঠানো অবৈধ নাগরিকদের গ্রহণ করার প্রশ্নে বাংলাদেশের কাছে এখনও হাজার হাজার আবেদন ঝুলে রয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক বারবার স্পষ্ট করেছে যে, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং দেশের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা তাদের অগ্রাধিকার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের এই প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করে দিচ্ছে যে ভারতের নতুন সরকার ‘ভারত প্রথম’ নীতির আওতায় সীমান্ত সুরক্ষা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) বজায় রাখবে। পুশব্যাকের মতো কড়া পদক্ষেপ শুরু হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমীকরণ বদলাতে পারে, তবে ভারতের স্পষ্ট বার্তা— এটি কারোর বিরোধিতা নয়, বরং নিজের দেশের নাগরিকদের স্বার্থ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লড়াই।





