ওড়িশার কালাহান্ডি জেলার পরমানন্দপুর এলাকায় অবস্থিত ‘রেড ক্রস’ বিশেষ বিদ্যালয়। যেখানে আশ্রয় নেওয়ার কথা ছিল সমাজের অবহেলিত অন্ধ, মূক ও বধির শিশুদের। কিন্তু সেই স্কুলের চার দেওয়ালের ভেতরেই যে বিভীষিকা লুকিয়ে ছিল, তা কল্পনা করলেও শিউরে উঠতে হয়। ওই স্কুলের ওয়ার্ডেন সন্ধ্যা দর্শন মহাপাত্রের বিরুদ্ধে বিশেষভাবে সক্ষম ছাত্র ও ছাত্রীদের ওপর দীর্ঘমেয়াদী যৌন ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই গোটা রাজ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, স্কুলের অন্ধকার ঘরে নিয়ে গিয়ে ছাত্রছাত্রীদের ইচ্ছের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি করতেন অভিযুক্ত ওয়ার্ডেন। অসহায় পড়ুয়ারা যেহেতু কথা বলতে বা শুনতে পায় না, তাই তাদের অক্ষমতার সুযোগ নিতেন সন্ধ্যা। একাধিক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ছাত্রীদের আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করছেন তিনি। মূক ও বধির ছাত্ররা বিশেষ অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে পুলিশকে জানিয়েছে, প্রতিবাদ করলেই জুটত অকথ্য শারীরিক অত্যাচার। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিজেপি শাসিত ওড়িশায় গত কয়েক মাসে নারী নিগ্রহের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত বছর বালেশ্বরে এক বি.এড ছাত্রীর গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা থেকে শুরু করে পুরী ও কেন্দ্রপাড়ায় একের পর এক শ্লীলতাহানির ঘটনা রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। কালাহান্ডির এই ঘটনা সেই ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অবিলম্বে অভিযুক্ত ওয়ার্ডেনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত যাতে এই অসহায় শিশুদের ওপর আর কেউ হাত দেওয়ার সাহস না পায়।