পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সদ্যই রচিত হয়েছে এক নতুন ইতিহাস। দীর্ঘ তিন মেয়াদের তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের মসনদে বসেছে বিজেপি সরকার। আর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই অ্যাকশন মোডে রয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর প্রথম শনিবারেই এক বড়সড় চমক দিলেন তিনি। সোজা হাজির হলেন টলিউডের ‘মহাগুরু’ তথা বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তীর নিউ টাউনের বাসভবনে।
শনিবার সকালে মিঠুন চক্রবর্তীর বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঐতিহাসিক জয়ের পর মহাগুরুর সঙ্গে এটিই ছিল তাঁর প্রথম একক বৈঠক। আর এই সাক্ষাৎকারের পরেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
“শুভেন্দুর চেয়ে ভালো মুখ্যমন্ত্রী হয় না”, গ্যারান্টি মহাগুরুর
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে পাশে বসিয়ে দরাজ সার্টিফিকেট দেন মিঠুন চক্রবর্তী। স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতেই তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে শুভেন্দুর চেয়ে ভালো মুখ্যমন্ত্রী আর হতেই পারে না। আমি একদম গ্যারান্টি দিয়ে এ কথা বলছি। শপথ নেওয়ার পর থেকেই যেভাবে উনি দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছেন, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। আমাদের রাজ্যের সৌভাগ্য যে আমরা ওঁর মতো একজনকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছি। আমি সব সময় ওঁর পেছনে রয়েছি।”
মহাগুরুর মুখে এমন প্রশংসা শুনে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রীও। তিনি তখনই মিঠুন চক্রবর্তীকে জড়িয়ে ধরেন। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মিঠুনদার জনপ্রিয়তা শুধু বিজেপির গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, তার বাইরেও বিশাল। সত্যি বলতে, আমি নিজে অষ্টম শ্রেণীর পর আর কোনো সিনেমা দেখিনি। তবে মিঠুনদা অন্য স্তরের মানুষ। তিনি আমাদের সবার মহাগুরু। আজ আমি এখানে ওঁর আশীর্বাদ নিতে এসেছি।”
নেপথ্য কারিগর মিঠুনদা: কৃতজ্ঞতা প্রকাশ শুভেন্দুর
নির্বাচনী বৈতরণী পার করার ক্ষেত্রে মিঠুন চক্রবর্তীর অবদান যে কতটা অনস্বীকার্য, তা প্রকাশ্যে স্বীকার করতে দ্বিধা করেননি মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচনী প্রচারের সময় রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে তীব্র গরমের মধ্যে ঘুরে ঘুরে বিজেপির হয়ে প্রচার করেছিলেন মিঠুন।
সেই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মিঠুনদা হলেন এ রাজ্যে এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারিগর।” তিনি আরও জানান, প্রচারের সময় মিঠুন চক্রবর্তী রাজ্যের সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন জায়গায় নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই সমস্ত প্রতিশ্রুতি যাতে দ্রুত পূরণ করা যায়, তা নিয়েই মূলত এ দিনের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
শুভেন্দুর এই কথার সুর ধরেই মিঠুন চক্রবর্তী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “নির্বাচনী প্রচারে যেখানে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সবটাই অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করব। মুখ্যমন্ত্রী আমাকে যেভাবে কাজ করার নির্দেশ দেবেন, আমি সেটাই অনুসরণ করে চলব।”
সৌজন্য সাক্ষাৎ পর্ব শেষ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে ছবি শেয়ার করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকার গঠনের পর রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং বিশেষ করে সংস্কৃতি ও বিনোদন জগতের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মহাগুরুর পরামর্শ নিতেই এই বিশেষ বৈঠক ছিল অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ।





