এপ্রিলেই ওয়াশিংটন সফরে ভারতীয় প্রতিনিধি দল! ৫০০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে সিলমোহর, চাপে কি রাশিয়া?

ভারত ও আমেরিকার বাণিজ্যিক সম্পর্কে এক নতুন দিগন্ত খুলে যেতে চলেছে। চলতি মাসের শেষেই এক উচ্চপর্যায়ের ভারতীয় প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটন পাড়ি দিচ্ছে এক ‘বিশেষ’ চুক্তিতে চূড়ান্ত সিলমোহর দিতে। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর বৃহস্পতিবার এই বড় ঘোষণা করেছেন।

কী আছে এই ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তিতে? ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির রূপরেখা ঘোষণা করেছিলেন। এই চুক্তির অন্যতম প্রধান দিকগুলি হলো:

  • শুল্ক হ্রাস: ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন কর বা ট্যারিফ বর্তমানের ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হচ্ছে। এটি ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য বিরাট জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • বিশাল বিনিয়োগ: বিনিময়ে ভারত আগামী ৫ বছরে আমেরিকা থেকে জ্বালানি, বিমান, কয়লা ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি কিনতে ৫০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তেল রাজনীতি ও রাশিয়ার অবস্থান: হোয়াইট হাউস সূত্রের খবর, এই চুক্তির পেছনে আমেরিকার একটি বড় শর্ত ছিল রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি কমানো। তবে বর্তমানে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে তৈরি হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ভারতকে সাময়িকভাবে রাশিয়া থেকে ‘সীমিত পরিমাণ’ তেল কেনার ছাড় দিয়েছে ওয়াশিংটন। আমেরিকার দাবি, এই সীমিত আমদানিতে রাশিয়ার যুদ্ধ তহবিলে বিশেষ সুবিধা হবে না।

অর্থমন্ত্রীর সফর বাতিল: প্রাথমিকভাবে ঠিক ছিল কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। কিন্তু দেশে লোকসভা ও বিধানসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ বিল নিয়ে বিশেষ তৎপরতা শুরু হওয়ায়, তিনি সফর বাতিল করেছেন। তাঁর পরিবর্তে উচ্চপদস্থ আমলারা এই সফরে যাবেন।

কেন এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ? ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতের ওপর উচ্চ হারে শুল্ক বসানোর হুমকি দিচ্ছিলেন। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যেকার সম্ভাব্য ‘ট্রেড ওয়ার’ বা বাণিজ্য যুদ্ধ আপাতত থমকে গেল। একদিকে ভারত যেমন মার্কিন বাজারে সহজ প্রবেশাধিকার পাচ্ছে, তেমনই আমেরিকাও ভারতের মতো বিশাল বাজারে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতে সক্ষম হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy