বাংলার রেশন গ্রাহকদের জন্য বড়সড় দুঃসংবাদ। আগামী ১ এপ্রিল থেকে রাজ্যের প্রায় ১২ লক্ষ গ্রাহকের রেশন পরিষেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে। খাদ্য দপ্তর সূত্রে খবর, এই গ্রাহকদের ডিজিটাল রেশন কার্ড থাকলেও তাঁরা আর বিনামূল্যে চাল, গম বা অন্যান্য সামগ্রী তুলতে পারবেন না। ইতিমধ্যেই জেলাস্তরে এই সংক্রান্ত তালিকা পাঠিয়ে সতর্ক করা হয়েছে রেশন ডিলারদের।
কেন বন্ধ হচ্ছে রেশন? খাদ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই বিপুল সংখ্যক গ্রাহক দীর্ঘ ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে রেশন দোকান থেকে কোনো খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করেননি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কার্ড দীর্ঘ সময় ‘ইনঅ্যাক্টিভ’ বা নিষ্ক্রিয় থাকলে ধরে নেওয়া হয় যে গ্রাহক হয়তো মৃত অথবা ভুয়া তথ্য দিয়ে কার্ডটি বানানো হয়েছিল। এছাড়াও, যারা এখনও পর্যন্ত তাঁদের রেশন কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড লিঙ্ক এবং ই-কেওয়াইসি (e-KYC) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেননি, তাঁদের নামও এই তালিকায় রাখা হয়েছে।
১২ লক্ষ গ্রাহকের ভাগ্য ঝুলে: নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্য জুড়ে ভুয়ো রেশন কার্ড রুখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর আগে কয়েক দফায় সময়সীমা বাড়ানো হলেও, প্রায় ১২ লক্ষ মানুষ এখনও তাঁদের কার্ড যাচাই করাননি। ফলে এপ্রিল মাস থেকেই তাঁদের কার্ডগুলি ব্লক বা ডিঅ্যাক্টিভেট করে দেওয়া হবে। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদীয়া জেলায় এই ধরণের কার্ডের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে।
ফিরে পাওয়ার উপায় কী? রেশন বন্ধ হওয়ার হাত থেকে বাঁচতে গ্রাহকদের দ্রুত নিজেদের এলাকার রেশন দোকানে গিয়ে আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিকের মাধ্যমে ই-কেওয়াইসি করতে হবে। এছাড়াও খাদ্য দপ্তরের অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে আধার সংযোগের কাজ সেরে ফেলতে হবে। যদি সঠিক তথ্য প্রদান করে কার্ডটি পুনরায় সক্রিয় করা না হয়, তবে চিরতরে বাতিল হতে পারে আপনার সাধের রেশন কার্ডটি।
খাদ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রকৃত অভাবী মানুষ যাতে রেশন পায় এবং অযোগ্যরা যাতে সুবিধা নিতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই এই ‘শুদ্ধিকরণ’ অভিযান। তাই ১ এপ্রিলের আগে আপনার রেশন কার্ডটি সচল আছে কি না, তা দ্রুত যাচাই করে নিন।