শ্যুটিং শেষে একাই কি সমুদ্রে নেমেছিলেন রাহুল? অভিনেতার মর্মান্তিক পরিণতিতে মুখ খুললেন ম্যাজিক মোমেন্টস-এর কর্ণধার

টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে ফের শোকের ছায়া। জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘জল থই থই ভালোবাসা’ খ্যাত অভিনেতা রাহুল চক্রবর্তীর অকাল প্রয়াণে স্তম্ভিত স্টুডিও পাড়া থেকে অনুরাগীরা। দিঘায় শ্যুটিং চলাকালীন ঠিক কী ঘটেছিল সেই দিন? অভিনেতা কি সত্যিই মদ্যপ অবস্থায় সমুদ্রে নেমেছিলেন, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ? ঘটনার বেশ কিছু সময় পর অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর কর্ণধার তথা প্রযোজক-লেখিকা লীনা গঙ্গোপাধ্যায়।

সূত্রের খবর, একটি নতুন প্রকল্পের শ্যুটিংয়ের কাজে দিঘায় গিয়েছিলেন রাহুল ও ইউনিটের অন্যান্য সদস্যরা। সারাদিনের ব্যস্ত শ্যুটিং শিডিউল শেষ হওয়ার পর আচমকাই খবর আসে অভিনেতা নিখোঁজ। পরে সমুদ্র সৈকত থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনা প্রসঙ্গে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় জানান, রাহুল অত্যন্ত প্রতিভাবান এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ একজন অভিনেতা ছিলেন। সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “শ্যুটিং প্যাক-আপ হওয়ার পর সবাই যখন বিশ্রামে ছিল, রাহুল তখন একাই সমুদ্রের দিকে গিয়েছিলেন বলে শোনা যাচ্ছে। কিন্তু কেন তিনি একা অত রাতে সমুদ্রের অত কাছে গেলেন, সেটা এখনও আমাদের কাছে ধোঁয়াশা।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একাধিক তত্ত্ব নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন প্রযোজক। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইউনিটের পক্ষ থেকে সুরক্ষার কোনো খামতি ছিল না। রাহুলকে কেউ একা যেতে বলেনি, বরং এটি ছিল একটি দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা। পুলিশি তদন্ত চলছে এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছে পরিবার ও টলিউড মহল। রাহুলের এই আকস্মিক চলে যাওয়া বাংলা টেলিভিশন জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর সহকর্মীরা জানাচ্ছেন, রাহুল সবসময় হাসিখুশি থাকতেন, তাঁর জীবনে এমন কোনো অবসাদ ছিল বলে মনে হয় না যা তাঁকে চরম কোনো সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিতে পারে। আপাতত এই শোকাতুর পরিবেশে সত্যের সন্ধানে রয়েছেন সকলে।