লোকসভা নির্বাচনের আবহে বীরভূমের মাটি থেকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার সিউড়ির হাইভোল্টেজ সভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে তৃণমূল জমানায় ‘বোমা তৈরি’ কার্যত কুটির শিল্পে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “গোটা বিশ্ব যখন ভারতের অস্ত্র রফতানি দেখছে, তখন বাংলায় তৃণমূলের দৌলতে ঘরে ঘরে হাত-বোমা তৈরির কারখানা চলছে।”
“প্রতিশোধের সেরা সুযোগ এখনই” বগটুই কাণ্ড থেকে শুরু করে আরজি কর ইস্যু— একাধিক প্রসঙ্গ টেনে মোদি এদিন ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “তৃণমূল যে অপরাধ করেছে, এবার ইভিএমে তার প্রতিশোধ নেওয়ার সেরা সময়।” তাঁর দাবি, বীরভূমে শিল্প বলতে শুধু বোমা শিল্পই অবশিষ্ট রয়েছে, বাকি সব কলকারখানা তৃণমূলের অত্যাচারে বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
চাকরি ও জমি দুর্নীতি নিয়ে তোপ রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রের ‘রোজগার মেলা’র তুলনা টেনে আনেন। তিনি বলেন:
“বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে গত ৩ বছরে ১৭ লক্ষ সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছে। আর বাংলায় চলছে ‘চাকরি চুরির খেলা’। তৃণমূলের দুর্নীতির জেরে আজ কত পরিবার নিঃস্ব হয়ে গিয়েছে।”
বালি, পাথর ও কয়লা মাফিয়াদের দাপট নিয়ে মোদি বলেন, তৃণমূলের মদতেই রাজ্যে ‘গ্যাংওয়ার’ চলছে। এমনকি অনুপ্রবেশকারীদের ভুয়ো নথি দিয়ে রাজ্যে স্থায়ী করার পেছনেও শাসকদলের ‘সিন্ডিকেট’ হাত রয়েছে বলে তিনি গুরুতর অভিযোগ তোলেন।
রবীন্দ্রনাথ ও বিশ্বভারতী প্রসঙ্গ এদিন ভাষণের একপর্যায়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম স্মরণ করে তিনি বলেন, “কবিগুরু এমন এক সমাজ চেয়েছিলেন যেখানে মানুষ নির্ভীক থাকবে। কিন্তু তৃণমূলের ‘জঙ্গলরাজ’ সেই স্বপ্ন চুরমার করে দিয়েছে।” বীরভূমের শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে মোদি জানান, বিশ্বভারতীর মতো প্রতিষ্ঠান যে জেলা উপহার দিয়েছে, আজ সেখানকার স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং যুবকদের কাজের জন্য ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হচ্ছে।
উপসংহার মোদির এই আক্রমণাত্মক ভাষণকে কেন্দ্র করে সরগরম বীরভূমের রাজনীতি। একদিকে যখন অনুব্রতহীন বীরভূমে ঘর গোছাতে মরিয়া তৃণমূল, তখন সরাসরি ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার ডাক দিয়ে লড়াইয়ের সুর বেঁধে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। এখন দেখার, ব্যালট বক্সে বীরভূমের মানুষ এই ‘প্রতিশোধের ডাক’-এ কতটা সাড়া দেয়।





