কখনও সিবিআই, কখনও আবার কাস্টমস অফিসার— পুলিশ আধিকারিক সেজে ভিডিও কলের মাধ্যমে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ (Digital Arrest)-এর ফাঁদ পেতে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সাইবার অপরাধীরা। এই মারাত্মক জালিয়াতি রুখতে এবার কোমর বেঁধে নামল কেন্দ্র। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিয়ে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপের সুপারিশ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
সিম কার্ড জালিয়াতিতে এবার ‘বায়োমেট্রিক’ কড়াকড়ি:
কেন্দ্রের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, প্রতারকরা প্রায়ই ভুয়ো পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সিম কার্ড কেনে। এটা আটকাতে এবার সিম বিক্রির ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ (আঙুলের ছাপ বা ফেস স্ক্যান) বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ করা হয়েছে। টেলিকম বিভাগকে এই নিয়ম দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানিয়েছে কেন্দ্র।
হোয়াটসঅ্যাপ ও স্কাইপ কলে নজরদারি:
সাধারণ ফোন কলের বদলে অপরাধীরা এখন হোয়াটসঅ্যাপ বা স্কাইপ কলকে হাতিয়ার করছে। কেন্দ্রের সুপারিশ অনুযায়ী:
সন্দেহজনক বা স্প্যাম কল শনাক্ত করার প্রযুক্তি দ্রুত উন্নত করতে হবে।
জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত স্কাইপ বা হোয়াটসঅ্যাপ আইডি শনাক্ত করে তৎক্ষণাৎ ব্লক করতে হবে।
একই অপরাধী যাতে ভিন্ন নম্বর ব্যবহার করে বারবার জালিয়াতি করতে না পারে, তার জন্য কঠোর ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করতে হবে।
ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে বড় পদক্ষেপ:
টাকা হাতছাড়া হওয়া রুখতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)-এর জন্য বিশেষ নির্দেশিকা থাকছে রিপোর্টে। কোনো লেনদেন সন্দেহজনক মনে হলেই বা অভিযোগ পাওয়ামাত্রই অপরাধীর অ্যাকাউন্টটি তৎক্ষণাৎ ফ্রিজ বা আটকে দিতে হবে। লক্ষ্য একটাই— প্রতারিত ব্যক্তির টাকা যাতে অপরাধীর হাতে পৌঁছানোর আগেই ব্লক করা যায়, যাতে সেই টাকা ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে।
সমন্বয় বাড়াবে ৩ মন্ত্রক:
এই সুরক্ষা বলয় মজবুত করতে কেন্দ্রের টেলিকম বিভাগ, ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক এবং আরএসআই-কে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। সাইবার প্রতারণার জাল ছিঁড়ে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা সুরক্ষিত রাখাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।





