মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে কি তবে পরাজয় স্বীকার করে নিল ইরান? যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতেই তেহরানকে চরম কটাক্ষ করল আমেরিকা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বুধবার এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে বসেছেন। তাঁর মতে, ইরান কার্যত ‘ভিক্ষা’ করে এই যুদ্ধবিরতি আদায় করেছে। যদিও এই অপমানজনক দাবির প্রেক্ষিতে ইরানের পক্ষ থেকে এখনও কোনো পালটা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে বিধ্বস্ত ইরান! হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হেগসেথ জানান, আমেরিকার চালানো ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ একতরফা জয় ছিনিয়ে এনেছে। মার্কিন সামরিক শক্তির দাপটে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন খড়কুটোর মতো ভেঙে পড়েছে। হেগসেথের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:
মাত্র এক রাতেই ইরানের ওপর ৮০০টি ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সেনা।
ইরানের একাধিক সামরিক কারখানা ও কৌশলগত কেন্দ্র এখন ধ্বংসস্তূপ।
আমেরিকার দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা বর্তমানে তলানিতে এসে ঠেকেছে।
জখম খামেনেই? নতুন জল্পনা: প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথ আরও একটি বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছেন। তিনি দাবি করেছেন, আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই গুরুতর জখম হয়েছেন। যদিও এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো প্রমাণ বা তথ্য তিনি প্রকাশ করেননি, তবে এই দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
মধ্যস্থতায় ব্রাত্য পাকিস্তান, নেপথ্যে চিন: এতদিন এই যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব পাকিস্তান দাবি করে এলেও, আসল ছবিটা ভিন্ন। জানা যাচ্ছে, এই যুদ্ধ থামানোর প্রধান কারিগর আসলে শি জিনপিংয়ের দেশ। ট্রাম্প প্রশাসনও পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নিয়েছে যে, পাকিস্তান বা তুরস্ক নয়, বরং চীনের সরাসরি হস্তক্ষেপেই ইরান আলোচনায় বসতে বাধ্য হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ওপর চিনের প্রবল প্রভাব যে আমেরিকার কাজে লেগেছে, তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।
এক নজরে যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপট: দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনার পর ট্রাম্পের আলটিমেটাম কাজ করতে শুরু করে। বেইজিংয়ের মধ্যস্থতায় শেষ পর্যন্ত রণক্ষেত্র থেকে পিছিয়ে আসতে সম্মত হয়েছে দুই পক্ষই। তবে আমেরিকার এই ‘বিজয় গর্ব’ ইরান কীভাবে নেয়, সেটাই এখন দেখার।





