শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে অদ্ভুত এক ‘বিভ্রান্তি’র সাক্ষী থাকল পুরুলিয়া। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের ভুলে একটি উর্দু প্রাইমারি স্কুলে নিয়োগ করা হলো বাংলা মাধ্যমের শিক্ষিকাকে। আর সেই ভুল জানাজানি হতেই যোগদানের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই শিক্ষিকাকে রাতারাতি বদলি করে দেওয়া হলো অন্য স্কুলে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরুলিয়া ১ নম্বর ব্লকের ভান্ডারপুয়ারা বিএমসি উর্দু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে তীব্র উত্তেজনা।
১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন বিদ্যালয়টিতে আড়াই বছর আগে একমাত্র শিক্ষকের অবসরের পর থেকেই তালা ঝুলেছে। মোমেনডি গ্রামের প্রায় ৫০০ সংখ্যালঘু পরিবারের শিশুরা এই স্কুলেই পড়াশোনা করত। সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে জেলায় ২২১ জন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়। তার মধ্যেই একজনকে এই উর্দু স্কুলে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি বাংলা মাধ্যমের হওয়ায় এবং স্কুলটি কার্যত বন্ধ থাকায় তাঁকে সরিয়ে নেওয়া হয়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, একদিকে যখন জেলায় ৩০০টির বেশি স্কুল মাত্র একজন শিক্ষকের ওপর ভরসা করে চলছে, তখন সংখ্যালঘু এলাকায় একটি পুরনো স্কুল এভাবে বন্ধ থাকা সরকারের ‘উন্নয়ন’-এর দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য শামিম আনসারিও এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ। তাঁর মতে, শিক্ষার দিক থেকে উন্নয়ন হয়নি এবং তাঁদের সংস্কৃতিকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। অন্যদিকে, নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (ABPTA) এবং বিজেপি এই ঘটনাকে ‘নিয়োগ দুর্নীতি’ ও ‘সংখ্যালঘু তোষণের নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি রাজীব লোচন সরেন অবশ্য দাবি করেছেন, ওই স্কুলে বর্তমানে কোনও ছাত্র নেই বলেই শিক্ষক নেই। তবে উর্দু স্কুলে কেন বাংলা মাধ্যমের শিক্ষিকাকে পাঠানো হলো, সেই প্রশ্নের সদুত্তর মেলেনি।