সোমবার অসম বিধানসভায় পেশ করা হলো বহুল আলোচিত ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) অসম, ২০২৬’ বিল। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নির্দেশে সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী অতুল বোরা এই বিলটি বিধানসভায় উত্থাপন করেন। উত্তরাখণ্ডের পর ভারতের দ্বিতীয় রাজ্য হিসেবে অসম এই পথে হাঁটায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই বিলে একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাড় দেওয়া হয়েছে—রাজ্যের কোনো তফসিলি উপজাতির (Scheduled Tribes) ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য হবে না।
বিলটির প্রধান দিকসমূহ:
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, এই বিলের মূল লক্ষ্য বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং লিভ-ইন সম্পর্কের আইনগুলোকে আরও সরল ও আইনি কাঠামোর আওতায় আনা। প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষের ন্যূনতম বয়স ২১ বছর এবং মহিলার বয়স ১৮ বছর নির্ধারিত করা হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অসমে এখন থেকে বহুবিবাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।
লিভ-ইন সম্পর্কের নতুন আইন:
প্রথমবারের মতো লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি করছে অসম সরকার। এখন থেকে এই ধরনের সম্পর্ক নথিবদ্ধ করা বাধ্যতামূলক। সরকারের দাবি, এর ফলে সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অধিকার এবং সেখান থেকে জন্ম নেওয়া শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। এছাড়াও বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে স্বামী-স্ত্রীর ভরণপোষণ ও উত্তরাধিকারের আইনি সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হয়।
সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও উত্তরাধিকার আইন:
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, এই বিল অসমের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে ক্ষুণ্ণ করবে না। বরং বিভিন্ন ধর্মের নিজস্ব প্রথা ও রীতিনীতি মেনে বিবাহ সম্পন্ন করার সুযোগ বজায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আইনগুলোকে আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে, যাতে সম্পত্তির হস্তান্তর প্রক্রিয়া সকল নাগরিকের জন্য সমান ও স্বচ্ছ হয়। এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকার পৃথক রেজিস্ট্রার নিয়োগ-সহ প্রশাসনিক পরিকাঠামো গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিতর্ক:
বিধানসভায় বিল পেশ হওয়ার পরই বিরোধী দলগুলো—কংগ্রেস, রাইজর দল এবং তৃণমূল কংগ্রেস—তীব্র বিরোধিতা করেছে। বিরোধীদের দাবি, এই বিল কার্যকর করার আগে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজন ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংবিধানের ৪৪তম অনুচ্ছেদের নির্দেশ মেনেই এই অভিন্ন আইনি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যা সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন বাংলার দিকে, কারণ নির্বাচনী ইশতেহারে বিজেপির ইউসিসি চালুর প্রতিশ্রুতি থাকায়, অসমে এই বিল কার্যকর হওয়ার পর বাংলায় এর প্রভাব কী হয়, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।





