বুধবার থেকে ইস্পাত এবং অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার শুল্ক দ্বিগুণ করছে বলে হোয়াইট হাউস ঘোষণা করেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা একটি আদেশে বলা হয়েছে যে, তাঁর বাণিজ্য পদক্ষেপের সর্বশেষ ধাপ হিসেবে এই দুই ধাতুর উপর আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হয়েছে।
তবে, ব্রিটেন থেকে ধাতু আমদানির উপর শুল্ক ২৫ শতাংশে বহাল থাকবে, কারণ উভয় পক্ষ তাদের পূর্ববর্তী বাণিজ্য চুক্তির শর্তাবলী অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ করেছে। আদেশে আরও বলা হয়েছে যে, এই বর্ধিত শুল্ক শিল্পগুলিকে আরও সহায়তা করবে এবং ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্য এবং তাদের অপ্রাসঙ্গিক আমদানির ফলে সৃষ্ট জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি হ্রাস বা নির্মূল করবে।
গত সপ্তাহে পেনসিলভানিয়ার একটি মার্কিন ইস্পাত কারখানায় কর্মীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের উপর শুল্ক বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিলেন। তিনি সেই সময় বলেছিলেন যে, “কেউ আপনার শিল্প চুরি করতে পারবে না।”
শুল্ক বৃদ্ধির প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, ৩০ মে, ২০২৫ তারিখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন বাণিজ্য সম্প্রসারণ আইন, ১৯৬২-এর ২৩২ ধারার অধীনে ইস্পাত এবং অ্যালুমিনিয়ামের উপর আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করেছেন। তাঁর প্রথম মেয়াদে (২০১৮) ট্রাম্প ইস্পাতের উপর আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ এবং অ্যালুমিনিয়ামের উপর ১০ শতাংশ করেছিলেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে, অ্যালুমিনিয়ামের উপর শুল্ক হারও ২৫ শতাংশ করা হয়েছিল।
ভারতের উদ্বেগ ও পাল্টা পদক্ষেপের প্রস্তুতি
ভারত গত বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৪.৫৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অ্যালুমিনিয়াম এবং ইস্পাত রফতানি করেছে। এর মধ্যে লোহা এবং ইস্পাত রফতানি ছিল ৩.১ বিলিয়ন ডলারের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় ইস্পাতের চাহিদা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইস্পাতের দাম অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি টন ইস্পাতের দাম ৯৮৪ ডলার, যেখানে ইউরোপে এটি প্রতি টন ৬৯০ ডলার এবং চিনে ইস্পাতের দাম প্রতি টনে ৩৯২ ডলার। ভারতে বর্তমানে প্রতি টন ইস্পাতের দাম ৫০০-৫৫০ ডলার।
এদিকে, ভারতও মার্কিন শুল্কের বিনিময়ে পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিয়েছে। ভারত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (WTO)-কে পাঠানো একটি নোটিশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর শুল্ক হার বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। তবে, এটি বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ট্রাম্প ইস্পাত এবং অ্যালুমিনিয়ামের উপর শুল্ক বৃদ্ধি করার পর, ভারত পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে কতদিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর শুল্ক বাড়াবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। এই বাণিজ্যযুদ্ধ দুই দেশের অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।