ইরান কি গৃহযুদ্ধের দোরগোড়ায়? মোজতবা খামেনেইয়ের হুঙ্কারে কাঁপছে তেহরান, মার্কিন-ইসরায়েলকে তোপ!

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই এক চাঞ্চল্যকর বিবৃতিতে নাগরিকদের চরম সতর্কবার্তায় বার্তা দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি দাবি করেন যে, আমেরিকা ও ইসরায়েলের মতো শত্রু রাষ্ট্রগুলো ইরানের শক্তির কাছে মাথা নত করেছে, আর সেই পরাজয়ের গ্লানি থেকেই তারা এখন ইরানের ভেতরে গৃহযুদ্ধ বা অভ্যন্তরীণ সংঘাত উস্কে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। দেশের এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে জনগণকে সতর্ক করে মোজতবা সাফ জানিয়েছেন, কোনো ধরনের হতাশা বা ক্ষোভমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা সরাসরি শত্রুর এজেন্ডাকে সফল করার নামান্তর।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরান প্রবল আশঙ্কা করছে যে, তেহরানকে অস্থিতিশীল করতে আমেরিকা ও ইসরায়েল একটি ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ শুরু করেছে। অতীতেও নানা সময়ে ইরানজুড়ে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও অস্থিরতা তৈরির প্রচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ওয়াশিংটন ও তেল আভিভের বিরুদ্ধে। মোজতবা খামেনেইয়ের এই বার্তা সেই পুরনো আশঙ্কারই বহিঃপ্রকাশ।

বিশেষজ্ঞরা অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের ক্ষেত্রে তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন। প্রথমত, মোজতবা খামেনেই যখন থেকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইয়ের পর সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নিয়েছেন, তখন থেকে তিনি রহস্যময়ভাবে জনসমক্ষে অনুপস্থিত। তাঁর কোনো সাম্প্রতিক ভিডিও বা সরাসরি কথোপকথন নেই বললেই চলে, যার ফলে কেবল লিখিত বার্তার ওপর নির্ভরতা ইরানি সমাজে ও গণমাধ্যমে ব্যাপক ধোঁয়াশার জন্ম দিয়েছে। দ্বিতীয়ত, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক প্ররোচনামূলক মন্তব্য। সিএনবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে ইরানি জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামার ডাক দিয়েছেন। তাঁর দাবি, বর্তমান ইরানি সরকার পতনের দ্বারপ্রান্তে এবং জনগণ জেগে উঠলে সহজেই এই শাসনের অবসান সম্ভব। তৃতীয়ত, ২০২৬ সালের মে মাসে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের (IRGC) একটি বিশেষ অভিযানের তথ্য। সেই সময় ইরাক সীমান্তে বিপুল পরিমাণ মার্কিন অস্ত্র জব্দ করে তারা, যা দেশের ভেতরে কোনো নাশকতার জন্য পাচার করা হচ্ছিল বলে দাবি তেহরানের।

ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনির ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মোজতবা খামেনেই বলেন, “শত্রু কেবল সামরিক নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক হাইব্রিড যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সংকটময় মুহূর্তে ইরানি জনগণের ঐক্যই হবে শত্রুর সবচেয়ে বড় জবাব। তিনি দাবি করেন, ইরান আজও খোমেনির দেখানো সেই আদর্শ ও পথ অনুসরণ করেই এগোচ্ছে।

সর্বোচ্চ নেতার মতে, ইসরায়েল ও আমেরিকা ইরানের ভেতর বিভেদ তৈরির জন্য অত্যন্ত সূক্ষ্ম অস্ত্র ব্যবহার করছে, যার উদ্দেশ্য জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে উস্কে দেওয়া এবং জাতীয় সংহতি নষ্ট করা। মোজতবার এই হুঁশিয়ারি বার্তা বুঝিয়ে দিচ্ছে, আন্তর্জাতিক রাজনীতির ময়দানে ইরান এখন এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে বৈদেশিক চাপের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা, আর অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের আশঙ্কা—সব মিলিয়ে তেহরান এখন এক চরম অস্থিরতার কেন্দ্রে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy