মধ্যপ্রাচ্যের আগুন আর শুধু ইরান, ইজরায়েল বা আমেরিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যুদ্ধের লেলিহান শিখা গ্রাস করছে দুবাই, বাহরিন ও ওমানকেও। গালফ দেশগুলোতে ইরানের লাগাতার এয়ারস্ট্রাইক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই আবহে এখন একটাই প্রশ্ন বিশ্ববাসীর মনে— এই যুদ্ধ ঠিক কবে থামবে?
ট্রাম্পের ‘আনলিমিটেড’ সময়সীমা?
যুদ্ধের ডেডলাইন নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সংঘাতের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। তাঁর কথায়, “আমরা প্রাথমিক অনুমানে ৪ থেকে ৫ সপ্তাহের কথা ভেবেছিলাম। তবে আমাদের যা ক্ষমতা, তাতে যুদ্ধ আরও বেশিদিন চললেও কোনো সমস্যা নেই।” নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, প্রয়োজনে মাঠে সেনা নামাতেও তাঁর কোনো দ্বিধা নেই।
ইরাকের মতো ‘আজীবন’ যুদ্ধ নয়?
ট্রাম্পের সুর কিছুটা চড়া হলেও মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেট পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর দাবি, এটি ইরাক যুদ্ধের মতো ‘অবিরাম’ কোনো লড়াই নয়। তিনি মনে করেন, এটি অনন্তকাল চলবে না, তবে এখনই কোনো নির্দিষ্ট টাইমলাইন দেওয়া সম্ভব নয়।
নেতানিয়াহুর ‘দ্রুত ও পরিকল্পিত’ অ্যাকশন
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ বছরের পর বছর চলার মতো নয়। এটি একটি পরিকল্পিত অপারেশন। তাঁর কথায়, “কিছুটা সময় তো লাগবেই, তবে আমরা এন্ডলেস যুদ্ধে বিশ্বাসী নই।” ইজরায়েল ও আমেরিকা যৌথভাবে ইরানের সামরিক শক্তিকে গুঁড়িয়ে দিতে চাইছে, আর সেই লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।
ইরানের ক্ষমতা কি ফুরিয়ে আসছে?
ইরানে নিযুক্ত ব্রিটেনের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত রবার্ট ম্যাকেয়ারের মতে, এই যুদ্ধ অনন্তকাল স্থায়ী হওয়া সম্ভব নয়। তাঁর যুক্তি, ইরানের পক্ষে অনির্দিষ্টকাল ধরে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে যাওয়ার মতো অর্থনৈতিক বা সামরিক রসদ নেই। ফলে একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের পর তেহরান আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য হতে পারে।
বিশেষজ্ঞের মত: আমেরিকা ও ইজরায়েলের বর্তমান আক্রমণাত্মক ভঙ্গি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা ইরানকে পুরোপুরি কোণঠাসা না করে যুদ্ধ থামাবে না। ৪-৫ সপ্তাহ পার হওয়ার পর এই যুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।