পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখতে বড় পদক্ষেপ নিল ভারত সরকার। সম্ভাব্য সংকটের কথা মাথায় রেখে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলিকে অন্তত ৩০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো এলপিজি (LPG) মজুত বা ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা জানান, ইন্ডিয়ান অয়েল (IOC), ভারত পেট্রোলিয়াম (BPCL) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (HPCL)-কে তাদের স্বাভাবিক বাণিজ্যিক মজুতের অতিরিক্ত এলপিজি সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা কার্যকর করতে বলা হয়েছে।
ভারতের জ্বালানি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশ এলপিজি আসে উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে। ইরান সংকট ঘনিয়ে ওঠায় এই সরবরাহ চেইন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং রিফাইনারিগুলি সর্বোচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছে। বর্তমানে দৈনিক এলপিজি উৎপাদন প্রায় ৫২ হাজার টনে পৌঁছেছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
এদিকে, দেশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে জ্বালানির অস্বাভাবিক বিক্রি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মন্ত্রক। সুজাতা শর্মার মতে, দামের পার্থক্যের কারণে মানুষ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির পাম্পে ভিড় করছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৫০টির বেশি জেলায় পেট্রোল বিক্রি ৩০ শতাংশ এবং ১৫৬টি জেলায় ডিজেল বিক্রি ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। উল্টোদিকে, বেসরকারি জ্বালানি বিক্রেতাদের বিক্রি ৩৮ শতাংশ কমেছে। উল্লেখ্য, ১৫ মে থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি পেট্রোল-ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি প্রায় ৭.৫০ টাকা বাড়ালেও তা বাজারদর বা বেসরকারি সংস্থার তুলনায় কম, যা বিক্রির এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে অনুঘটকের কাজ করেছে।
মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে সরকার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে ‘স্পেশাল এনফোর্সমেন্ট স্কোয়াড’ গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, বাজারে কোনো গ্যাসের ঘাটতি নেই। জনগণকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনা বা মজুত করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকার নজর রাখছে যাতে কোনো অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর বা পাম্পে অনিয়ম না হয়। সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির চাপ মোকাবিলায় ভারত এখন আগাম প্রস্তুতির কৌশল গ্রহণ করেছে।





