ভারতীয় বংশোদ্ভূত কেরলের নার্স নিমিশা প্রিয়ার মৃত্যুদণ্ড রদ হওয়ার যে খবর সম্প্রতি ছড়িয়েছিল, তা মঙ্গলবার সরাসরি বাতিল করে দিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। ইয়েমেনে ২০১৭ সালের একটি খুনের দায়ে নিমিশাকে সে দেশের আদালত মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছিল। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিমিশা প্রিয়াকে নিয়ে কিছু বেসরকারি সূত্রের যে খবর প্রচারিত হচ্ছিল, তা সম্পূর্ণ সঠিক নয়।
সোমবার ভারতের সর্বোচ্চ মুফতি কন্থপুরম এপি আবুবকর মুসলিয়ার-এর দফতর থেকে একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছিল যে, নিমিশা প্রিয়ার মৃত্যুদণ্ড সরকারিভাবে বাতিল করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিমিশার মৃত্যুদণ্ডাদেশ যা এর আগে সাময়িক স্থগিত রাখা হয়েছিল, তা সানায় এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পুরোপুরি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, ইয়েমেনি সরকারের তরফে এই বিষয়ে এখনও কোনও লিখিত নির্দেশ আসেনি বলেও মুফতির কার্যালয় জানিয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই নিমিশার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গ্র্যান্ড মুফতি আবুবকর মুসলিয়ারের সরাসরি হস্তক্ষেপে মৃত্যুদণ্ডের ঠিক আগের দিন তা স্থগিত হয়ে যায়। তিনি ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষের কাছে নিমিশার প্রতি দয়া প্রদর্শনের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন।
এই পরিস্থিতিতে নিমিশা প্রিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে ফের অনিশ্চয়তা দেখা দিল। মায়ের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ যেন কার্যকর না হয়, এই আবেদন নিয়ে ইয়েমেনে পৌঁছেছিল নিমিশার ১৩ বছরের মেয়ে মিশেল। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মাকে চোখে না দেখা মিশেল তার মাকে ফিরিয়ে আনার জন্য আকুতি জানিয়েছিল – ‘আমি আমার মাম্মিকে ভালোবাসি, দয়া করে আমার মাকে ফিরিয়ে দিন।’ এই সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের এই ঘোষণা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করল।