রাজ্যে পালাবদলের হাওয়া এবার আছড়ে পড়ল টলিউডের অন্যতম প্রধান সংগঠন ইম্পা (EIMPA)-র অন্দরে। দীর্ঘ ৬ বছরের একাধিপত্যের পর সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের চেয়ার টলল শুক্রবার। বিরোধী প্রযোজকদের দাবি, শুক্রবারের বৈঠকে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের উপস্থিতিতে পিয়া সেনগুপ্তকে সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে প্রযোজক রতন সাহাকে অস্থায়ী সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
কী ঘটেছিল শুক্রবারের বৈঠকে? বিরোধী শিবিরের অন্যতম মুখ শতদীপ সাহার দাবি, শুক্রবার ইম্পার বৈঠকে ৩০০-র বেশি সদস্য উপস্থিত ছিলেন। পিয়া সেনগুপ্ত এই বৈঠক ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং বারবার মাঝপথেই কক্ষত্যাগ করেন। শতদীপ বলেন, “পিয়াদি চাইছিলেন না মিটিংটা হোক, কারণ উনি বুঝতে পেরেছিলেন অধিকাংশ সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে। এতোদিন সবাই ভয়ে কিছু বলতে পারেননি, আজ প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।”
তিনি আরও জানান, সভাপতি পদত্যাগ না করলেও, উপস্থিত সদস্যদের ধ্বনিভোটে রতন সাহার নাম অস্থায়ী সভাপতি হিসেবে উঠে আসে। যতদিন না নতুন নির্বাচন হচ্ছে, ততদিন রতন সাহাই ইম্পার দায়িত্ব সামলাবেন।
পুলিশি প্রহরায় নাটকীয় পরিস্থিতি: পুরো বৈঠকটিই হয়েছে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে। শতদীপ সাহার কথায়, পিয়া সেনগুপ্ত নিজেই চেয়েছিলেন পুলিশ থাকুক যাতে তিনি কোনো অস্বস্তিতে না পড়েন। পুলিশের উপস্থিতিতেই ‘নো কনফিডেন্স মোশন’ আনা হয়। বৈঠক চলাকালীন শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলেছেন পিয়া, তবে শতদীপ সাহা উল্টে দাবি করেছেন যে, পিয়াই তাঁর কলার ধরে টানাটানি করেছেন। তিনি বলেন, “মহিলা সেন্টিমেন্ট ব্যবহার করে সবসময় পার পাওয়া যায় না।”
আইনি জটিলতা ও ভবিষ্যতের পথ: ২০২৫ সালের হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০২৭ সাল পর্যন্ত পিয়া সেনগুপ্তের মেয়াদ ছিল। এই পরিস্থিতিতে সভাপতি পদে রতন সাহার নাম ঘোষণা করা কতটা আইনসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পিয়া সেনগুপ্ত এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে শুক্রবার রাতেই শতদীপ সাহা বৌবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বর্তমানে ইম্পার কাজকর্ম পরিচালনার জন্য একটি নতুন অস্থায়ী কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। টলিপাড়ার প্রবীণ সদস্যদের মতে, এই লড়াই আদতে সিনেমার ব্যবসার ক্ষতি করছে, তবে একাংশ মনে করছেন সংগঠনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফেরাতে এই পদক্ষেপ অনিবার্য ছিল।
(তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সংবাদমাধ্যম)





