টলিউডের অন্দরে ফের একবার ইমপা (EIMPA)-র দখলদারি নিয়ে বড়সড় অশান্তির ঘটনা ঘটল। সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই ইমপার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে অনাস্থা দানা বাঁধছিল। সেই বিতর্কই চরম আকার নিল ২২ মে অনুষ্ঠিত বিশেষ মিটিংয়ে। এদিন ভোটপর্ব চলাকালীন ইমপা হাউস কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। মিটিং শুরুর আগে অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশ নিয়ে অভিযোগ তুলে সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত পুলিশে যাওয়ার হুমকি দিলেও, পরে তিনি মিটিংয়ে যোগ দেন। তবে সেই সভায় উপস্থিত সদস্যদের অধিকাংশের ভোট ছিল পিয়ার বিরুদ্ধেই।
এদিন নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্যে ইমপার পুরোনো কমিটি ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাব পাস করান সদস্যরা। নতুন কমিটিতে সম্পাদক হিসেবে রতন সাহার নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই ইমপায় দুই গোষ্ঠীর বিবাদ তুঙ্গে। একদিকে পিয়া সেনগুপ্ত দাবি করেছেন, এই পুরো প্রক্রিয়াটি বেআইনি এবং তিনি এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। অন্যদিকে, পিয়া-বিরোধী শিবিরের অন্যতম মুখ শতদীপ সাহার দাবি, নিয়মানুবর্তিতা ও স্বচ্ছতা ফেরাতেই তাঁরা নতুন করে নির্বাচনের পথে হাঁটছেন। খুব শীঘ্রই সমস্ত নিয়ম মেনে নতুন নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান।
অশান্তির রেশ কেবল সভা কক্ষেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। মিটিংয়ের পর ‘মিনিটস অফ দ্য মিটিং’ সঠিক না লেখা এবং ফাইল সরানোর অভিযোগে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। এক সদস্য পিয়া সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে ফাইল নিয়ে পালানোর অভিযোগ তুললে ইমপা হাউসে হুলস্থুল পড়ে যায়। যদিও পিয়া সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “ইমপার ফাইল এখানেই রয়েছে, আমি কেন ফাইল নিয়ে পালাব?” শতদীপ সাহা এই বিষয়ে বলেন, “ফাইলে কী আছে, তা জানার অধিকার আমাদেরও আছে।”
দিনভর চলা এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে রাতে বৌবাজার থানা কার্যত দু’পক্ষের অভিযোগের কেন্দ্রে পরিণত হয়। সারাদিনের ঘটনাপ্রবাহ এবং হেনস্থার অভিযোগে পুলিশের দ্বারস্থ হন পিয়া সেনগুপ্ত। অসুস্থ বোধ করায় তাঁকে মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার জন্য যেতে হয়। পালটা হিসেবে শতদীপ সাহাও পুলিশের কাছে তদন্তের দাবি জানিয়ে চিঠি জমা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ইমপার সাথে টলিউডের ছবি মুক্তির দিনক্ষণ এবং স্ক্রিনিং কমিটির যোগসূত্র অত্যন্ত গভীর। একসময় মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের তত্ত্বাবধানে স্বরূপ বিশ্বাস এবং পিয়া সেনগুপ্তদের নিয়ে গঠিত কমিটিই ঠিক করত ছুটির মরসুমে কোন ছবি মুক্তি পাবে। কিন্তু বর্তমানে সেই কমিটির আর কোনো ভূমিকা নেই। ইমপার নতুন কমিটি গঠন এবং এই প্রশাসনিক রদবদলের পর টলিপাড়ার ব্যবসায়িক সমীকরণ কীভাবে পরিবর্তিত হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। আপাতত পিয়া সেনগুপ্ত ও নতুন কমিটির আইনি লড়াইয়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছে টলিপাড়া।





