বিধানসভা ভোটের ময়দানে এবার ‘নাড়ু’ আর ‘বিছুটি পাতা’র হুংকার! রবিবার তারকেশ্বরের জনসভা থেকে বিজেপি এবং নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তা থেকে শুরু করে ইভিএম জালিয়াতি— একাধিক ইস্যুতে এদিন সুর চড়ান তিনি।
“নাড়ু করে পাঠাব!”— মমতার রহস্যময় হুঁশিয়ারি
মঞ্চে দাঁড়িয়ে মেজাজি মেজাজে মমতা বলেন, “যারা যারা অত্যাচার করছে, তাদের নাম-ঠিকানা সব ডায়েরিতে লিখে রাখুন। ভোটের পর আমরা ওদের মিষ্টি পাঠাব। ইশারাই কাফি! একটু নাড়ু করে পাঠাব।” রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘নাড়ু’র মাধ্যমে মমতা আসলে ভোটের ফলাফলের পর কড়া ব্যবস্থার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।
‘গদ্দার’ ও ইডি-সিবিআই নিয়ে তোপ
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে বিঁধে মমতার সপাটে আক্রমণ, “সবচেয়ে বড় চোর তো গদ্দার! তৃণমূলের বাড়িতে রেড হলে তাঁর বাড়িতে কেন হবে না? তাঁর ভাই-বাবার বাড়িতে তল্লাশি হয় না কেন? চালাকি করে মহৎ কাজ হয় না।” অন্য একটি প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, “তৃণমূল চোর হলে তুমি সুপার ডাকাত! বিছুটি পাতা দিয়ে কিছু একটা বানান।”
ভোটারদের বিশেষ টোটকা: ‘নিজেদের খাবার সঙ্গে নিন’
ভোটের দিন ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে মা-বোনেদের সতর্ক করেন নেত্রী। তাঁর পরামর্শ:
ইভিএম ও ভিভিপ্যাট: ভোট দেওয়ার আগে এবং কাউন্টিংয়ের সময় কড়া নজর রাখতে হবে।
বিজেপির ‘চা-রাবড়ি’ বর্জন: মমতা বলেন, “ওরা রাবড়ি আর চা নিয়ে এলে খাবে না তোমরা। ঘরের খাবার সঙ্গে করে নিয়ে যাবে।”
সতর্কতা: কোনও অজানা ফর্মে সই না করার জন্য মা-বোনেদের নির্দেশ দেন তিনি।
দূরদর্শন ইস্যুতে ক্ষোভ
দূরদর্শনের লোগোর রঙ বদল নিয়ে এর আগেই সরব হয়েছিলেন তিনি। এদিনও তারকেশ্বরের মঞ্চ থেকে তিনি কটাক্ষ করেন, “দূরদর্শনকে মোদীদর্শন বানিয়ে দিয়েছে বিজেপি।”
ভোট যত এগোচ্ছে, দিদির আক্রমণাত্মক মেজাজ দেখে স্পষ্ট যে, এক ইঞ্চি জমিও তিনি বিরোধীদের ছাড়তে নারাজ। ‘নাড়ু’ তত্ত্বের এই ইশারা এখন পাহাড় থেকে সমতলে আলোচনার তুঙ্গে।





