২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ের মাঝেই ইভিএম (EVM) নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা এবং পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বর—এই দুই জায়গায় ইভিএম-এর বোতামে সেলোটেপ লাগিয়ে রাখার অভিযোগ উঠল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুথের ভেতরেই রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে ওঠে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই এই অভিযোগকে ‘গুরুতর’ বলে গণ্য করে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে।
ঘটনার বিবরণ:
ফলতা (দক্ষিণ ২৪ পরগনা): ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতার ১৪৪ নম্বর বুথ-সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় অভিযোগ ওঠে যে, বিজেপির পদ্ম প্রতীকের পাশের বোতামে সেলোটেপ বা আঠা লাগিয়ে রাখা হয়েছে। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য ভিডিও শেয়ার করে একে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর দাবি, ভোটাররা নির্দিষ্ট বোতাম টিপতে পারছিলেন না।
মন্তেশ্বর (পূর্ব বর্ধমান): মন্তেশ্বরের ৩৫ নম্বর বুথেও একই চিত্র দেখা যায়। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর প্রতীকের পাশের বোতামে টেপ লাগানো ছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয় এবং বেশ কিছুক্ষণ ভোটগ্রহণ থমকে যায়।
কমিশনের কড়া বার্তা: অভিযোগ পাওয়া মাত্রই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইভিএম-এর বোতামে টেপ বা আঠা লাগানো সরাসরি ‘ভোট কারচুপি’ বা ‘ইভিএম টেম্পারিং’-এর সামিল। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে:
সেক্টর অফিসাররা অবিলম্বে ওই বুথগুলির মেশিন পরীক্ষা করবেন।
যদি প্রমাণিত হয় যে ইচ্ছে করে বোতাম ব্লক করা হয়েছিল, তবে ওই বুথগুলিতে পুনর্নির্বাচন (Repoll) ঘোষণা করা হতে পারে।
ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রিসাইডিং অফিসার বা দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব এই নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দ্বারস্থ হয়েছেন। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি—নিজেদের হার নিশ্চিত জেনে বিজেপিই এই ধরনের ‘নাটক’ তৈরি করছে যাতে ভোট প্রক্রিয়াকে কলঙ্কিত করা যায়।
বিকেলের পর ওই বুথগুলোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ ও সন্দেহ বজায় রয়েছে। এখন কমিশনের রিপোর্টের ওপরই নির্ভর করছে ওই কেন্দ্রগুলোর ভাগ্য।





