আহমেদাবাদে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী, সিভিল হাসপাতালে গিয়ে কথা বললেন আহতদের সঙ্গে

বৃহস্পতিবারের ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় গোটা দেশ যখন শোকাতুর, তখন শুক্রবার সকালেই দুর্ঘটনাস্থল আহমেদাবাদে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর আগে গতকালই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

প্রধানমন্ত্রীর দুর্ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন
প্রধানমন্ত্রী দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখার পর আহমেদাবাদ সিভিল হাসপাতালে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল এবং কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রামমোহন নায়ডুও। হাসপাতালে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিমান দুর্ঘটনায় আহতদের সঙ্গে কথা বলেন। এই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিশ্বাস কুমার রমেশ, আহমেদাবাদের বিমান দুর্ঘটনায় তিনিই একমাত্র যাত্রী যিনি অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই পরিদর্শন নিহতদের পরিবারের প্রতি সরকারের গভীর সমবেদনা এবং আহতদের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত বহন করছে।

ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মৃতদেহ শনাক্তকরণ
শুক্রবার দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছেন এয়ার ইন্ডিয়ার সিইও ক্যাম্পবেল উইলসনও। এদিকে, মৃত যাত্রীদের দেহ শনাক্তকরণে ডিএনএ পরীক্ষা করানো হচ্ছে বলে সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে। আহমেদাবাদ সিভিল হাসপাতালেই মৃতদের ডিএনএ-র নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় শয়ে শয়ে মানুষের মৃত্যু হওয়ায়, অনেক ক্ষেত্রেই দেহ এতটাই বিকৃত হয়ে গেছে যে সাধারণ উপায়ে শনাক্তকরণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই ডিএনএ পরীক্ষা এই প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই পদ্ধতিটি মৃতদেহ শনাক্তকরণে নির্ভুলতা নিশ্চিত করবে এবং শোকাহত পরিবারগুলোকে তাদের প্রিয়জনের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।

স্মরণীয় চর্কী দাদরি এবং ভবিষ্যতের ভাবনা
উল্লেখ্য, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ১৯৯৬ সালের দিল্লির চর্কী দাদরি বিমান দুর্ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে, যেখানে এমন বড় আকারের প্রাণহানি ঘটেছিল। এই ঘটনা দেশজুড়ে বিমান নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার জন্য এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। বিমান নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy