ভুটান সীমান্ত লাগোয়া আলিপুরদুয়ার জেলার গ্রামগুলিতে উন্নয়নের নতুন রূপরেখা তৈরি করতে উদ্যোগী হলো কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমে জেলার ১৬টি সীমান্ত গ্রামকে ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু হতে চলেছে। এই মেগা প্রকল্পের রূপরেখা চূড়ান্ত করতে বুধবারই জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা কলকাতার বিশেষ কর্মশালায় যোগ দিয়েছেন।
কোন কোন এলাকা যুক্ত এই প্রকল্পে? প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত কুমারগ্রাম, কালচিনি ও মাদারিহাট—এই তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের ১৬টি গ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বেছে নেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছে:
মাদারিহাট: টোটোপাড়া, লঙ্কাপাড়াহাট এবং মাকড়াপাড়া চা বাগান।
কালচিনি: বক্সা পাহাড়, রাঙ্গামাটি চা বাগান ও ছোট জয়গাঁ।
কুমারগ্রাম: চুনিয়াঝোরা চা বাগান, ধুমপাড়া, মধ্য হলদিবাড়ি, ফাঁসখাওয়া এবং তুরতুরিখণ্ডসহ বেশ কিছু গ্রাম।
কী কী উন্নয়নমূলক কাজ হবে? কেন্দ্রীয় সরকারের এই বিশেষ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলির পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনা। রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আগে এই ধরনের কাজ ‘বর্ডার এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোজেক্ট’-এর মাধ্যমে হলেও, এবার তাকে নতুন ও আধুনিক রূপ দিচ্ছে কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত কাজের ডিপিআর (DPR) তৈরি করে অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে পাঠানো হবে।
রাজনীতির রং ও সাংসদের মন্তব্য রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলানোর সঙ্গে সঙ্গেই থমকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলো গতি পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই চর্চা শুরু হয়েছে। এই বিষয়ে আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘এতদিন রাজ্য সরকার রাজনৈতিক কারণে এই প্রকল্প আটকে রেখেছিল, ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ বকেয়া পড়েছিল। এখন ডাবল ইঞ্জিনের দৌলতে সেই সমস্ত তহবিল ব্যবহার করে দ্রুত গতিতে উন্নয়নের কাজ সম্পন্ন হবে।’’
সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রান্তিক গ্রামগুলির বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভাব-অভিযোগ মেটাতেই এই উদ্যোগ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের সীমান্ত এলাকার আর্থ-সামাজিক চিত্রে বড় বদল আসবে বলেই আশা করা হচ্ছে।





