আর্থিক দুর্নীতির পাহাড়! তদন্তের গতি বাড়াতে ইডি-তে বড় রদবদল, বাড়ল পদের সংখ্যা

রাজ্য তথা দেশজুড়ে বাড়ছে আর্থিক তছরুপের মামলার সংখ্যা। কয়লা থেকে নিয়োগ দুর্নীতি, কিংবা বেআইনি অর্থপাচার—একের পর এক চাঞ্চল্যকর মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি-র তৎপরতা এখন তুঙ্গে। তদন্তের পরিধি যেভাবে বিস্তৃত হচ্ছে, তাতে বিদ্যমান আধিকারিকদের ওপর কাজের চাপও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছিল। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি-কে আরও ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। দুর্নীতি দমনে সংস্থাটিকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বড়সড় রদবদল করা হলো ইডি-র বিভিন্ন পদের আসন সংখ্যায়।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ইডি-র সাংগঠনিক কাঠামোকে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদের সংখ্যা একলাফে বাড়ানো হয়েছে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের শীর্ষস্তর থেকে শুরু করে তদন্তকারী অফিসার পর্যায় পর্যন্ত প্রতিটি বিভাগে নিয়োগের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ইডি-র নতুন কাঠামো অনুযায়ী:

অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর অফ এনফোর্সমেন্ট: আগে ছিল ১০টি পদ, যা বাড়িয়ে এখন করা হয়েছে ২৪টি।

জয়েন্ট ডিরেক্টর অফ এনফোর্সমেন্ট: ২৮টি পদ থেকে বেড়ে এই সংখ্যা এখন হয়েছে ৪৯।

ডেপুটি ডিরেক্টর অফ এনফোর্সমেন্ট: এই স্তরে আধিকারিকের সংখ্যা ১৪৮ জন থেকে প্রায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে ২৬৭ করা হয়েছে।

অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অফ এনফোর্সমেন্ট: এখানে নিয়োগের সুযোগ অনেক বাড়ল, বর্তমানে এই পদে ৫৩১ জন আধিকারিক কাজ করতে পারবেন।

এনফোর্সমেন্ট অফিসার: তদন্তের মূল কাজের সঙ্গে যুক্ত এই পদের সংখ্যা ৩৫৫ থেকে বাড়িয়ে ৬০৬ করা হয়েছে।

অ্যাসিস্ট্যান্ট এনফোর্সমেন্ট অফিসার: ৪২৫টি পদ থেকে বাড়িয়ে এই সংখ্যা এখন ৮০৩।

অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর প্রসেকিউশন: আইনি লড়াই ও মামলার চার্জশিট তৈরির কাজকে আরও ধারালো করতে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের সংখ্যা ১ থেকে বাড়িয়ে ৭ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের এই পদক্ষেপটি কেবল প্রশাসনিক রদবদল নয়, বরং দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ে একটি বড় বার্তা। গত কয়েক বছরে অর্থ তছরুপের মামলা যেভাবে বেড়েছে, তাতে ইডি-র ওপর কাজের চাপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যে একাধিক হাই-প্রোফাইল মামলার ক্ষেত্রে তদন্তে গতি আনতে এই বর্ধিত জনবল বড় ভূমিকা রাখবে।

নতুন পদের এই ব্যাপক সংযোজন তদন্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার পাশাপাশি মামলার নিষ্পত্তিতেও বিশেষ সাহায্য করবে বলে আশা করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। ইডি-র প্রতিটি বিভাগে এই বাড়তি আধিকারিকরা নিয়োগ হলে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রাসী হয়ে মাঠে নামবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। প্রশাসনিক স্তরে ইডি-কে এভাবে আরও শক্তিশালী করে তোলার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ। এখন দেখার বিষয়, নতুন এই জনবল নিয়োগের পর দুর্নীতি দমনে কতটা গতি পায় তদন্তের চাকা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy