আরব সাগরে চিনা জাহাজের রহস্যময় গতিবিধি! আমেরিকার ওপর নজরদারি চালিয়ে ইরানকে দিচ্ছে তথ্য?

ভূ-রাজনীতির দাবার বোর্ডে এবার চাল দিচ্ছে ড্রাগন। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আবহে আরব সাগরে চিনা গবেষণা জাহাজের উপস্থিতি বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট এবং জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, চিনের অত্যাধুনিক গবেষণামূলক জাহাজ ‘দায়াং ইহাও’ (মহাসাগর নং ১) গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে ভারতের পশ্চিমে আরব সাগর এলাকায় অবস্থান করছে। তবে এটিকে স্রেফ ‘গবেষণা’ বলতে নারাজ প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। সন্দেহ করা হচ্ছে, এই জাহাজটি আসলে আমেরিকার সামরিক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করে সেই গোপন তথ্য ইরানের হাতে তুলে দিচ্ছে।

প্রযুক্তির আড়ালে গুপ্তচরবৃত্তি? ‘দায়াং ইহাও’ চিনের প্রথম সারির আধুনিক সামুদ্রিক বিজ্ঞান গবেষণা জাহাজ। এটি এমন সব উন্নত প্রযুক্তিতে সজ্জিত যা সমুদ্রের গভীরতা এবং ভূগর্ভস্থ কাঠামোর রিয়েল-টাইম ম্যাপ তৈরি করতে সক্ষম। শুধু তাই নয়, এই জাহাজে রয়েছে অস্বাভাবিক সামুদ্রিক শব্দ ধরার সেন্সর এবং অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে শত্রুদেশের সাবমেরিন বা রণতরীর অবস্থান সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব।

মার্কিন রণতরীর নিশানায় চিন! গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞ ‘মেঞ্চওসিন্ট’-এর দাবি অনুযায়ী, জাহাজটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-এর অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থান করছিল। বর্তমানে এটি ইরান উপকূল থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার দক্ষিণে সরে এলেও এর গতিবিধি অত্যন্ত সন্দেহজনক। উল্লেখ্য, আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে দক্ষিণ চিন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে শক্তিশালী মার্কিন নৌবহর। এই পরিস্থিতিতে চিনা জাহাজের উপস্থিতি যুদ্ধের সম্ভাবনাকে আরও উসকে দিচ্ছে।

ইরান ও চিনের অশুভ আঁতাত? ২০১৬ সালে চিন ও ইরান একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই চুক্তির বাস্তবায়নই কি দেখছে বিশ্ব? একদিকে ইরান যখন হরমুজ প্রণালীতে দুই দিনের ‘লাইভ-ফায়ার’ নৌ মহড়ার ঘোষণা করেছে, ঠিক তখনই চিনের এই পরোক্ষ মদত আমেরিকাকে চাপে ফেলার কৌশল বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির কথা বলছেন, কিন্তু বাস্তবে আরব সাগরে বেজিংয়ের এই সক্রিয়তা অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদি সত্যিই চিন গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে ইরানকে সাহায্য করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তে পারে বিশ্বজুড়ে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy