আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের বিচার চেয়ে, ফের মমতার অনুদান অস্বীকার দুই পুজো কমিটির!

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে এক তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দীর্ঘ এক বছর পরও সুবিচার না মেলায় ফের প্রতিবাদে মুখর হয়েছে রাজ্যের পুজো কমিটিগুলো। এই বছরও দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের ৭ ও ১৪ পল্লী সর্বজনীন শারদোৎসব কমিটি রাজ্য সরকারের দেওয়া দুর্গাপুজোর অনুদান নিতে অস্বীকার করেছে। এই সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

আন্দোলনের আগুন এখনও জ্বলছে:
গত বছর আরজি করের এই ভয়াবহ ঘটনা রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছিল। সেই সময়ও বহু পুজো কমিটি সরকারের অনুদান প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এক বছর পরও সেই ক্ষোভের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে, কারণ এখনও পর্যন্ত অপরাধীরা শাস্তি পায়নি। এই প্রেক্ষাপটে পুজো কমিটিগুলোর এই সিদ্ধান্ত আবারও প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনার ক্ষোভ কতটা গভীর।

অনুদান প্রত্যাখ্যানের কারণ:
জয়নগরের দুই পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যতদিন পর্যন্ত ওই তরুণী চিকিৎসকের পরিবার সুবিচার না পাবে, ততদিন তাঁরা রাজ্য সরকারের অনুদান গ্রহণ করবেন না। কমিটির এক সদস্য বলেন, “এক বছর কেটে গেল, কিন্তু সেই তরুণীর পরিবারের কান্নার জবাব এখনও মেলেনি। সুবিচারের দাবিতে আমাদের এই প্রতিবাদ।” তাঁরা আরও জানান যে, এই সিদ্ধান্তের কথা তাঁরা প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়ে দেবেন।

অন্যান্য ক্লাবের প্রতিবাদ:
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বছর দুর্গাপুজোর অনুদান ৮৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করেছেন। কিন্তু এর পরেও একের পর এক ক্লাব এই অনুদান প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এর আগে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের বিদ্রোহী ক্লাব এবং নদিয়ার রানাঘাটের ৪ নম্বর পল্লী দুর্গোৎসব কমিটি একই সিদ্ধান্ত নেয়। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো জয়নগরের এই দুই পুজো কমিটি।

নারী সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন:
আরজি করের ঘটনার পর কসবার ল’ কলেজে ছাত্রীকে গণধর্ষণ এবং নদিয়ার কালীগঞ্জে বিস্ফোরণে এক শিশুর মৃত্যুর মতো ঘটনাগুলো রাজ্যের নারী সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলছে। এই পরিস্থিতিতে নাগরিক সমাজের পাশাপাশি পুজো কমিটিগুলোর প্রতিবাদ রাজ্যের শাসক দলের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নবান্ন অভিযানের ডাক:
নিহত তরুণী চিকিৎসকের বাবা-মা আগামী ৯ আগস্ট ‘অরাজনৈতিক নবান্ন অভিযান’-এর ডাক দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, “মেয়ের আত্মার শান্তির জন্য এবং সুবিচারের জন্য আমাদের এই লড়াই চলবে।” পুজোর উৎসবের আবহে এই ধরনের প্রতিবাদ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এক গভীর বার্তা দিচ্ছে। একদিকে সরকারের উন্নয়নমুখী পদক্ষেপ, অন্যদিকে সুবিচারের দাবিতে প্রতিবাদ — এই দুইয়ের সংঘাত রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy