‘আরএল’ দেখে মাথায় হাত! পরীক্ষার রেজাল্ট আটকে ক্ষুব্ধ ছাত্র, বিচার চেয়ে সিবিএসই-কে তলব আদালতের

অন-স্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) পদ্ধতির বিতর্ক পিছু ছাড়ার আগেই ফের বড় বিপাকে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই)। এবার একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির এক পড়ুয়ার ভবিষ্যতের ঝুঁকি নিয়ে সিবিএসই-র বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হলো জরুরি পিটিশন। ঘটনাটি সৌদি আরবের আল-জুবাইলের ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ান স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র প্রাংশু জিগরকুমার প্যাটেলের। ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে অনড় বিলম্বের জেরে রীতিমতো দিশেহারা এই মেধাবী পড়ুয়া।

সূত্রের খবর, জিগরকুমার প্যাটেল পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, ইংরেজি এবং কম্পিউটার সায়েন্স—এই পাঁচটি বিষয়ে ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষার জন্য নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন পরীক্ষা তিনি সম্পন্ন করলেও, পশ্চিম এশীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নিরাপত্তা জনিত সংকটের কারণে বাকি তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল করতে বাধ্য হয় বোর্ড। এই পরিস্থিতিতে গত ২৭ মার্চ সিবিএসই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেখানে জানানো হয়, যেসব ছাত্রছাত্রীর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারেনি, তাদের জন্য বিশেষ মূল্যায়ন পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে। বোর্ডের ঘোষিত নিয়ম অনুযায়ী, বাতিল হওয়া বিষয়গুলোর নম্বর ছাত্রছাত্রীদের ত্রৈমাসিক, ষাণ্মাসিক এবং প্রি-বোর্ডের ফলের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। প্রয়োজনে বিশেষ পরীক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।

কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। গত ১৩ মে সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির ফলাফল প্রকাশ করলেও, জিগরকুমার প্যাটেলের ফলাফলের জায়গায় দেখা যায় “আরএল” (ফলাফল পরে জানানো হবে)। বোর্ডের এই অস্পষ্ট অবস্থান নিয়ে ক্ষুব্ধ ছাত্রটি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়ে বলেছে, এই বিলম্ব তার ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী, অন্যায্য ও বৈষম্যমূলক, যা ভারতীয় সংবিধানের ১৪ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

আবেদনে ছাত্রটি উল্লেখ করেছে, ২ মে সে ধীরুভাই আম্বানি বিশ্ববিদ্যালয়ে বি.টেক (কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আবেদন করে এবং প্রয়োজনীয় ফি জমা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ১ জুনের মধ্যে দ্বাদশ শ্রেণির ফলাফল আপলোড করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। কিন্তু সিবিএসই-র গাফিলতির কারণে তিনি এখন ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারছেন না, এমনকি অন্য কোনো কলেজেও আবেদনের সুযোগ হারিয়েছেন।

এই চরম অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পেতে প্রাংশু এখন সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক এবং সিবিএসই-র দুবাই আঞ্চলিক কার্যালয় যেন অবিলম্বে ২৭ মার্চের মূল্যায়ন পরিকল্পনা মেনে তাঁর ফলাফল প্রকাশ করে। পাশাপাশি, বাতিল হওয়া গণিত, ইংরেজি ও কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ের জন্য বিশেষ পরীক্ষা বা পুনঃপরীক্ষার সুযোগ দেওয়ারও আবেদন রেখেছেন তিনি। আবেদনকারীর স্পষ্ট যুক্তি, অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হলে তাকে কেন শুধুমাত্র ‘প্রাইভেট পরীক্ষার্থী’ হওয়ার কারণে বঞ্চিত করা হবে? এখন দেখার বিষয়, শীর্ষ আদালত সিবিএসই-কে কী নির্দেশ দেয় এবং এই পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ কোন পথে মোড় নেয়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy