বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বাইক নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইয়ামাহা মোটরস এবার মোটরসাইকেল নিরাপত্তায় বিপ্লব আনতে চলেছে। এতদিন আমরা কেবল দামি বিলাসবহুল গাড়িতে ‘অ্যাডাপ্টিভ ক্রুজ কন্ট্রোল’ (ACC) প্রযুক্তির কথা শুনেছি। কিন্তু এবার ইয়ামাহা এমন এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পেটেন্ট আবেদন করেছে, যা বাইক চালানোকে করবে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্মার্ট ও নিরাপদ।
সাধারণত গাড়ির ক্ষেত্রে অ্যাডাপ্টিভ ক্রুজ কন্ট্রোল প্রযুক্তি বেশ পরিচিত। এটি সামনের গাড়ির দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গতি নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু বাইকের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং, কারণ একটি বাইকের ভারসাম্য পুরোপুরি চালকের ওপর নির্ভর করে। মাত্র দুটি চাকার ওপর নিয়ন্ত্রিত গতি বজায় রাখা গাড়ির তুলনায় অনেক বেশি জটিল। ইয়ামাহা তাদের নতুন পেটেন্টে এই জটিল সমস্যারই এক বৈপ্লবিক সমাধান নিয়ে এসেছে।
ইয়ামাহার এই নতুন প্রযুক্তিটি কেবল গতি নিয়ন্ত্রণই করবে না, বরং প্রয়োজনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গিয়ার পরিবর্তন এবং ব্রেকও প্রয়োগ করবে। কোম্পানিটির দাবি, তাদের এই সিস্টেমটি একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ চালকের বুদ্ধিমত্তার মতো কাজ করবে। বাইকের সামনে বিল্ট-ইন রাডার সেন্সর থাকবে, যা সামনের কোনো ধীরগতির যানবাহন শনাক্ত করলেই সক্রিয় হয়ে উঠবে। এরপর ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল ইউনিট স্বয়ংক্রিয়ভাবে থ্রটল কমিয়ে দেবে। পাশাপাশি, ইয়ামাহার জনপ্রিয় ‘অটোমেটেড ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশন’ (Y-AMT) সিস্টেমটি গিয়ার বদলে ফেলবে, যাতে বাইকটির ইঞ্জিন বন্ধ না হয় এবং গতি মসৃণভাবে হ্রাস পায়।
শুধু তাই নয়, যদি এই প্রক্রিয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে প্রযুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামনের ও পেছনের ব্রেক প্রয়োগ করবে। সবথেকে চমকপ্রদ বিষয় হলো, জরুরি ভিত্তিতে ব্রেক করার সময় বাইকের সামনের অংশ যাতে ঝুঁকে না যায়, সেজন্য বাইকের ইলেকট্রনিক সাসপেনশন নিজেকে তাৎক্ষণিকভাবে সামঞ্জস্য করে নেবে। এর ফলে চালক কোনো বড় ধরনের ঝাঁকুনি অনুভব করবেন না এবং বাইকটি পুরোপুরি ভারসাম্যপূর্ণ থাকবে।
বর্তমানে বিএমডব্লিউ (BMW R 1300 GS) বা ডুকাটি (Ducati Multistrada V4)-র মতো কিছু প্রিমিয়াম বাইকে অ্যাডাপ্টিভ ক্রুজ কন্ট্রোল থাকলেও, সেখানে জরুরি ব্রেকিংয়ের দায়িত্ব চালকের হাতেই থাকে। ইয়ামাহা সেখানে এক ধাপ এগিয়ে। তারা এমন এক সিস্টেম তৈরি করছে যা চালকের ভুল বা ঘাবড়ে যাওয়ার প্রবণতাকে কাটিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুর্ঘটনা রুখতে সক্ষম হবে। ইয়ামাহার বিশ্বাস, এই প্রযুক্তি সফলভাবে বাণিজ্যিক মডেলে প্রয়োগ করা গেলে আগামী কয়েক বছরে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশেই কমে আসবে। বাইক চালানো এখন কেবল গতির নেশা নয়, বরং হয়ে উঠবে প্রযুক্তিনির্ভর এক নিরাপদ সফর।





