আর কোনো রেহাই নেই! গরু পাচার রুখতে শুভেন্দু সরকারের ‘অপারেশন ক্লিন’, জেলাশাসকদের কড়া নির্দেশ

বাংলার প্রশাসনিক ইতিহাসে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গরু পাচার মামলা ছিল সবথেকে বড় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। রাজনৈতিক তরজা থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযান— এই ইস্যু বারবার রাজ্য রাজনীতিকে উত্তপ্ত করেছে। তবে এবার পট পরিবর্তন ঘটেছে। সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে এবার বন্ধ হবে গরু পাচার।

রাজ্য পুলিশের শীর্ষ মহল থেকে প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসকদের কাছে একটি জরুরি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। তাতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাজ্যের কোথাও কোনো ‘অবৈধ গরু হাট’ চালানো যাবে না। যে সমস্ত হাট নিয়ম বহির্ভূতভাবে গড়ে উঠেছে, সেগুলিকে অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে পাচারের যে পুরনো নেটওয়ার্ক বা রুট সক্রিয় ছিল, সেগুলিকে সমূলে উৎপাটন করতে বিশেষ টিম গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন।

নবান্ন সূত্রের খবর, সরকারের পক্ষ থেকে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাতে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে টহলদারি এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করতে বলা হয়েছে। তবে এই কড়া দাওয়াইয়ের মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক ভারসাম্যের ওপর জোর দিয়েছেন। নির্দেশিকায় পরিষ্কার বলা হয়েছে, “অভিযান চলাকালীন সাধারণ মানুষ বা বৈধ গবাদি পশু ব্যবসায়ীরা যেন কোনোভাবেই অযথা হয়রানির শিকার না হন।” অর্থাৎ, আইন প্রয়োগ হবে কঠোরভাবে, কিন্তু তার আড়ালে সাধারণ মানুষের জনজীবন যেন বিঘ্নিত না হয়, সেদিকেও কড়া নজর রাখতে হবে পুলিশকে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই পাচারমুক্ত বাংলা গড়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এই নির্দেশিকা তারই প্রথম ধাপ। সীমান্তবর্তী থানাগুলিকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে এবং এই কাজে গাফিলতি দেখা দিলে সরাসরি বিভাগীয় ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, এই প্রশাসনিক কড়াকড়ির পর বাংলার সীমান্ত অপরাধ কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy