শনিবার রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে একগুচ্ছ নজিরবিহীন ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন তিনি ভার্চুয়ালি এসএসকেএম হাসপাতালে একটি নতুন ১০০ বেডের ওয়ার্ডের উদ্বোধন করেন। এই নতুন ওয়ার্ডটি চালু হওয়ায় হাসপাতালে রোগীর ভিড় এবং রেফার-সংক্রান্ত জটিলতা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আয়ুষ্মান ভারতের আওতা ও স্বাস্থ্যসাথী পরিকল্পনা:
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে ন্যাশনাল হেলথ মিশন (NHM) বাস্তবায়িত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে ১ কোটি ৩৬ লক্ষেরও বেশি পরিবারকে কেন্দ্রীয় আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, এই বিশাল সংখ্যক মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার আরও চিকিৎসক, নার্স, টেকনিক্যাল এবং নন-টেকনিক্যাল কর্মী নিয়োগ করবে। স্বাস্থ্য পরিষেবাকে তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দিতে প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নতুন নামকরণের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, এখন থেকে রাজ্যের সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি ‘আয়ুষ্মান মন্দির’ হিসেবে পরিচিত হবে।
টিকাকরণ ও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন:
সম্প্রতি রাজ্য জুড়ে চলা টিকাকরণ অভিযানের সাফল্য তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২৩৫টি হাসপাতাল, ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও গ্রামীণ হাসপাতালে এই অভিযান চালানো হয়েছিল। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সহায়তায় প্রাপ্ত প্রায় পৌনে আট লক্ষ ভ্যাকসিন ডোজ মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োগ করে সরকার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এছাড়া, উত্তরবঙ্গে একটি এইমস-এর মতো আধুনিক স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠান তৈরির জন্য জমি খোঁজার কাজ দ্রুতগতিতে চলছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
বেসরকারি হাসপাতালে গরিবদের অধিকার:
চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও সুলভ করার লক্ষ্যে বেসরকারি হাসপাতালগুলির ওপর কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, যেসব বেসরকারি হাসপাতাল সরকারি জমিতে নামমাত্র মূল্যে (১ টাকায়) গড়ে উঠেছে, তাদের মোট শয্যার ১৫ শতাংশ অবশ্যই অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির মানুষের জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে। এ ছাড়া হাসপাতালগুলিতে রেফারেল সমস্যা মেটাতে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে, যা রোগীদের বিড়ম্বনা কমাবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এই যুগান্তকারী পরিবর্তন রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য এক বড় স্বস্তির বার্তা নিয়ে এল।





