আমেরিকার কথা রাখলেন না নেতানিয়াহু? গভীর রাতে ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে ইজরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র

রবিবার গভীর রাতে ইরানের হামলার বদলা নিল ইজরায়েল। সোমবার ভোরের আলো ফোটার আগেই ইরানের একাধিক শহরে তীব্র এয়ার স্ট্রাইক চালাল ইজরায়েলি বিমান বাহিনী। মূলত ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করেই এই সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তেল আভিভের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা এখন চরমে।

কোথায় কোথায় হামলা? ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ এবং স্থানীয় সূত্রে খবর, রাজধানী তেহরান, ইসফাহান, তাবরিজ এবং পশ্চিম ইরানের একাধিক জায়গায় একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। ইসফাহানে অন্তত তিনটি বড় বিস্ফোরণ ঘটে বলে জানা গেছে। লেবাননের রাজধানী বৈরুত থেকেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গিয়েছে।

ট্রাম্পের অনুরোধ কি অমান্য করলেন নেতানিয়াহু? রাজনৈতিক মহলের বড় প্রশ্ন—তবে কি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশ উপেক্ষা করলেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু? এর আগে ট্রাম্প সরাসরি নেতানিয়াহুকে ইরানে পাল্টা হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছিলেন। শোনা গিয়েছিল, ইজরায়েল সেই অনুরোধ মেনে নেবে। কিন্তু সোমবারের এই হামলা প্রমাণ করল, রণকৌশলের প্রশ্নে ওয়াশিংটনের চেয়ে নিজের নিরাপত্তাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতানিয়াহু।

ইজরায়েল ও ইরান—উভয় পক্ষের স্বীকারোক্তি:

  • ইজরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি: এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) নিশ্চিত করেছে যে, তাদের বিমান বাহিনী পশ্চিম ও মধ্য ইরানের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে সফল হামলা চালিয়েছে। তবে তাদের দাবি, কোনো ইজরায়েলি বিমান ইরানের আকাশসীমার ভেতর প্রবেশ করেনি।

  • ইরানের প্রতিক্রিয়া: ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC) এক বিবৃতিতে হামলার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, ইজরায়েল ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করে ইরানের ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছে।

এই হামলার পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম থেকে শুরু করে ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এবং এই সংঘাত কতদূর গড়াবে, সেটাই এখন বড় চিন্তার বিষয় বিশ্ব নেতাদের কাছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy