বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের নজিরবিহীন ভরাডুবির পর এবার দলের অন্দরমহল থেকে উঠে এল এক ভয়ঙ্কর দুর্নীতির অভিযোগ। প্রার্থী বাছাই এবং টিকিট বণ্টন নিয়ে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের চাঞ্চল্যকর দাবি তুলে দল ছাড়ার ঘোষণা করলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা বিদায়ী মন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি। তাঁর এই দাবি ঘিরে রাজ্যে রাজনৈতিক মহলে কার্যত ভূমিকম্প শুরু হয়ে গিয়েছে।
৫ কোটিতে বিক্রি হয়েছে টিকিট! মনোজ তিওয়ারির দাবি অনুযায়ী, তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় স্থান পাওয়ার জন্য অন্তত ৭০ থেকে ৭২ জন প্রার্থী বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন করেছেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “টিকিট পাওয়ার জন্য এক একজন প্রার্থী কমপক্ষে ৫ কোটি টাকা করে দিয়েছেন।” মনোজের দাবি, তাঁকেও একই ধরনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি নীতিগত কারণে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
তৃণমূল ছাড়ছেন মনোজ: সূত্রের খবর, দলের এই ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ পরিবেশে আর থাকতে রাজি নন মনোজ। তিনি ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও ভবিষ্যতে তিনি আবারও ক্রিকেটের বাইশ গজে ফিরবেন, নাকি বিজেপিতে যোগ দিয়ে নতুন ইনিংস শুরু করবেন—তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। সরাসরি অভিষেক-মমতার নেতৃত্বের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি জানান, দলের এই পরিস্থিতি সম্পর্কে শীর্ষ নেতৃত্ব সবকিছুই জানতেন।
কাউন্সিলরদের তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজ: টিকিট কেলেঙ্কারির পাশাপাশি স্থানীয় স্তরের দুর্নীতি নিয়েও মুখ খুলেছেন মনোজ। তাঁর অভিযোগ, নিচুতলার কাউন্সিলর থেকে শুরু করে মেজকর্তারা সাধারণ মানুষের ওপর চাঁদাবাজি ও জুলুম চালাচ্ছেন। এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা না হলেও, হারের বাজারে মনোজের এই ‘বিদ্রোহ’ তৃণমূলের ভাবমূর্তিকে খাদের কিনারায় নিয়ে গিয়েছে।
বিজেপির প্রতিক্রিয়া: মনোজ তিওয়ারির এই অভিযোগকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল যে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে, মনোজের বয়ান তারই প্রমাণ। তৃণমূলের একাংশ এই অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ বলে উড়িয়ে দিলেও, হারের ধাক্কা সামলানোর মাঝেই এই নতুন বির্তক ঘাসফুল শিবিরের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভোট-পরবর্তী এই উত্তপ্ত আবহে মনোজের মতো একজন প্রভাবশালী নেতার দলত্যাগ ও দুর্নীতির এই খতিয়ান বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণকে যে ঢেলে সাজাবে, তা বলাই বাহুল্য।





